Smart Calculators

Smart

Calculators

BMI ক্যালকুলেটর

আপনার বডি মাস ইনডেক্স (BMI) তৎক্ষণাৎ গণনা করুন। WHO শ্রেণিবিন্যাস, স্বাস্থ্যকর ওজন পরিসীমা এবং ব্যক্তিগত পরামর্শ পান।

BMI ক্যালকুলেটর। ওজন ও উচ্চতা থেকে বডি মাস ইনডেক্স।
BMI ক্যালকুলেটর আপনার ওজনকে উচ্চতার বর্গ দিয়ে ভাগ করে বডি মাস ইনডেক্স গণনা করে। এটি WHO-এর মানদণ্ড অনুযায়ী ফলাফলকে কম ওজন, স্বাভাবিক, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় শ্রেণিবদ্ধ করে।

বডি মাস ইনডেক্স (BMI) কী?

বডি মাস ইনডেক্স (BMI) হলো একটি সংখ্যাসূচক মাপকাঠি যা একজন ব্যক্তির ওজন ও উচ্চতার অনুপাত থেকে নির্ধারণ করে তার শরীরের ভর স্বাভাবিক, কম না বেশি। BMI ১৮.৫ থেকে ২৪.৯-এর মধ্যে হলে তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে স্বাভাবিক ওজন হিসেবে গণ্য হয়, তবে দক্ষিণ এশীয়দের জন্য WHO এশিয়া-প্রশান্ত মানদণ্ড অনুসারে ১৮.৫ থেকে ২২.৯ পর্যন্ত BMI-ই স্বাভাবিক ধরা হয়।
বাংলাদেশে BMI-এর গুরুত্ব বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ (BDHS) ২০২২ অনুযায়ী, প্রজননক্ষম বয়সের (১৫-৪৯ বছর) প্রায় ৫৭% নারী ওজনাধিক্য বা স্থূলতায় ভুগছেন এশিয়ান BMI মানদণ্ড অনুসারে। শহরাঞ্চলে এই হার ৬৩.৭% এবং গ্রামাঞ্চলে ৫২.৩%। একই সময়ে, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ডায়াবেটিসের হার প্রায় ১১%, যা নিম্ন BMI-তেও দেখা দিতে পারে।
বেলজিয়ান গণিতবিদ অ্যাডলফ কোয়েটলে ১৮৩০-এর দশকে BMI ধারণাটি প্রথম উদ্ভাবন করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এটিকে জনসংখ্যা পর্যায়ে ওজনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়নের প্রাথমিক উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে। তবে মনে রাখতে হবে, BMI সরাসরি শরীরের চর্বি পরিমাপ করে না — এটি পেশি, হাড় ও চর্বির মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। তাই BMI-কে একটি প্রাথমিক সূচক হিসেবে দেখা উচিত এবং কোমরের পরিধি, শরীরের চর্বির শতাংশ ও সামগ্রিক সুস্থতার সাথে মিলিয়ে বিচার করা উচিত।

BMI কীভাবে হিসাব করবেন — ধাপে ধাপে

BMI হিসাব করতে আপনার শুধু দুটি তথ্য প্রয়োজন: ওজন (কেজিতে) এবং উচ্চতা (মিটার বা সেন্টিমিটারে)। মেট্রিক পদ্ধতিতে গণনা অত্যন্ত সহজ।
ধাপে ধাপে নিয়ম:
১. আপনার ওজন কেজিতে (kg) নোট করুন। যেমন: ৬৫ কেজি।
২. আপনার উচ্চতা মিটারে রূপান্তর করুন — সেন্টিমিটারে থাকলে ১০০ দিয়ে ভাগ করুন। যেমন: ১৬৫ সেমি = ১.৬৫ মিটার।
৩. উচ্চতাকে নিজের সাথে গুণ করুন (বর্গ বের করুন): ১.৬৫ × ১.৬৫ = ২.৭২২৫।
৪. ওজনকে উচ্চতার বর্গ দিয়ে ভাগ করুন: ৬৫ ÷ ২.৭২২৫ = ২৩.৯।
৫. আপনার BMI হলো ২৩.৯ — আন্তর্জাতিক WHO মানদণ্ডে এটি স্বাভাবিক (১৮.৫–২৪.৯) কিন্তু এশিয়ান মানদণ্ডে এটি ওজনাধিক্য (২৩.০–২৪.৯) শ্রেণিতে পড়ে।
আমাদের উপরের BMI ক্যালকুলেটর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সব হিসাব করে দেয় — শুধু আপনার ওজন ও উচ্চতা দিন, তাৎক্ষণিকভাবে আপনার WHO শ্রেণিবিন্যাস, স্বাস্থ্যকর ওজন পরিসীমা এবং স্বাভাবিক BMI পরিসীমায় পৌঁছাতে কত ওজন কমাতে বা বাড়াতে হবে তা দেখুন।

BMI-এর সূত্র (ফর্মুলা)

BMI=WH2BMI = \frac{W}{H^2}
  • BMIBMI = বডি মাস ইনডেক্স (kg/m² এককে)
  • WW = শরীরের ওজন (কিলোগ্রামে)
  • HH = উচ্চতা (মিটারে)
উচ্চতা সেন্টিমিটারে পাওয়া গেলে সূত্রটি হবে:
BMI=W(Hcm/100)2BMI = \frac{W}{(H_{cm} / 100)^2}
BMI শ্রেণিবিন্যাস — এশিয়ান মানদণ্ড (WHO এশিয়া-প্রশান্ত) বনাম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (WHO):
• কম ওজন (Underweight): ১৮.৫-এর নিচে (উভয় মানদণ্ডে একই) • স্বাভাবিক ওজন: ১৮.৫–২২.৯ (এশিয়ান) / ১৮.৫–২৪.৯ (আন্তর্জাতিক) • ওজনাধিক্য (Overweight): ২৩.০–২৪.৯ (এশিয়ান) / ২৫.০–২৯.৯ (আন্তর্জাতিক) • স্থূলতা (Obese): ২৫.০ বা তার বেশি (এশিয়ান) / ৩০.০ বা তার বেশি (আন্তর্জাতিক)
বাংলাদেশিদের জন্য এশিয়ান মানদণ্ড অধিক প্রাসঙ্গিক। গবেষণায় দেখা গেছে যে দক্ষিণ এশীয়দের ক্ষেত্রে BMI ২৩.৯-এ সেই একই ডায়াবেটিস ঝুঁকি তৈরি হয় যা পশ্চিমা জনগোষ্ঠীতে BMI ৩০.০-এ দেখা দেয়। বাংলাদেশি নারীদের ক্ষেত্রে BMI ২১-এও শরীরে অতিরিক্ত চর্বি থাকতে পারে, যা অন্যান্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম মাত্রা।

BMI হিসাবের উদাহরণ

উদাহরণ: ২৮ বছর বয়সী নারী — উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি, ওজন ৫৫ কেজি

উচ্চতা: ৫ ফুট ২ ইঞ্চি = ১৫৭ সেমি = ১.৫৭ মিটার। BMI = ৫৫ ÷ (১.৫৭ × ১.৫৭) = ৫৫ ÷ ২.৪৬৪৯ = ২২.৩। আন্তর্জাতিক WHO মানদণ্ডে এটি স্বাভাবিক ওজন (১৮.৫–২৪.৯) এবং এশিয়ান মানদণ্ডেও স্বাভাবিক সীমার মধ্যে (১৮.৫–২২.৯) রয়েছে। তবে এটি এশিয়ান স্বাভাবিক সীমার ঊর্ধ্বসীমার কাছে, তাই সামান্য ওজন বাড়লেই ওজনাধিক্য শ্রেণিতে চলে যাবেন। এই উচ্চতায় এশিয়ান মানদণ্ডে স্বাস্থ্যকর ওজন হলো ৪৫–৫৬ কেজি।

উদাহরণ: ৩৫ বছর বয়সী পুরুষ — উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, ওজন ৭৫ কেজি

উচ্চতা: ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি = ১৭০ সেমি = ১.৭০ মিটার। BMI = ৭৫ ÷ (১.৭০ × ১.৭০) = ৭৫ ÷ ২.৮৯ = ২৫.৯। আন্তর্জাতিক WHO মানদণ্ডে এটি ওজনাধিক্য (২৫.০–২৯.৯), কিন্তু এশিয়ান মানদণ্ডে এটি স্থূলতা (≥২৫.০) শ্রেণিতে পড়ে। এই উচ্চতায় এশিয়ান মানদণ্ডে স্বাস্থ্যকর ওজন সীমা হলো ৫৩–৬৬ কেজি। এই ব্যক্তির প্রায় ৯ কেজি ওজন কমালে ওজনাধিক্য সীমার ঊর্ধ্বপ্রান্তে (BMI ২৩.০) পৌঁছানো সম্ভব। এই BMI-তে টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় — বিশেষত দক্ষিণ এশীয় শারীরিক গঠনে।

উদাহরণ: ৪২ বছর বয়সী পুরুষ — উচ্চতা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি, ওজন ৫২ কেজি

উচ্চতা: ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি = ১৬৫ সেমি = ১.৬৫ মিটার। BMI = ৫২ ÷ (১.৬৫ × ১.৬৫) = ৫২ ÷ ২.৭২২৫ = ১৯.১। উভয় মানদণ্ডেই এটি স্বাভাবিক ওজনের মধ্যে পড়ে। এই উচ্চতায় স্বাস্থ্যকর ওজন সীমা হলো ৫০–৬২ কেজি (এশিয়ান মানদণ্ডে)। তবে মনে রাখতে হবে যে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীতে "থিন-ফ্যাট" শারীরিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায় — অর্থাৎ স্বাভাবিক BMI থাকা সত্ত্বেও শরীরে চর্বির অনুপাত বেশি থাকতে পারে। তাই BMI স্বাভাবিক হলেও কোমরের পরিধি পরীক্ষা করা জরুরি।

স্বাস্থ্যকর BMI বজায় রাখার পরামর্শ

  • সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন: আপনার প্লেটে ৫০% শাকসবজি ও ফলমূল, ২৫% প্রোটিন (ডাল, মাছ, ডিম, মুরগি) এবং ২৫% শর্করা (ভাত, রুটি) রাখুন। তেল, চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে আনুন। বাংলাদেশি খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত ভাত ও তেল একটি সাধারণ সমস্যা — ভাতের পরিমাণ কমিয়ে প্রোটিন ও সবজি বাড়ানো কার্যকর।
  • নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করুন: প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো বা সাঁতার কাটুন। WHO-এর সুপারিশ অনুযায়ী সপ্তাহে ১৫০ মিনিট মাঝারি বা ৭৫ মিনিট তীব্র শারীরিক কার্যকলাপ প্রয়োজন।
  • এশিয়ান BMI মানদণ্ড ব্যবহার করুন: বাংলাদেশি হিসেবে আপনার BMI ২৩-এর বেশি হলেই সতর্ক হওয়া উচিত, ২৫ পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার নেই। দক্ষিণ এশীয়দের ক্ষেত্রে কম BMI-তেই ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি শুরু হয়।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন: দিনে ৮-১০ গ্লাস (২-৩ লিটার) পানি পান করুন। অনেক সময় তৃষ্ণাকে ক্ষুধা মনে হয়, যার ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়।
  • পর্যাপ্ত ঘুমান: প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম জরুরি। ঘুমের অভাবে ক্ষুধার হরমোন (ঘ্রেলিন) বৃদ্ধি পায় এবং তৃপ্তির হরমোন (লেপটিন) কমে যায়, ফলে ওজন বাড়ে।
  • শুধু BMI-এর উপর নির্ভর করবেন না: কোমরের পরিধি (ওয়েস্ট সার্কামফারেন্স) পরীক্ষা করুন। পুরুষদের জন্য ৯০ সেমি-এর কম এবং নারীদের জন্য ৮০ সেমি-এর কম কোমরের পরিধি স্বাস্থ্যকর। এশিয়ানদের জন্য এই সীমা পশ্চিমা মানদণ্ডের চেয়ে কম।

BMI সম্পর্কে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

বাংলাদেশিদের জন্য স্বাভাবিক BMI কত হওয়া উচিত?

বাংলাদেশিদের জন্য WHO এশিয়া-প্রশান্ত মানদণ্ড অনুসারে স্বাভাবিক BMI হলো ১৮.৫ থেকে ২২.৯। এটি আন্তর্জাতিক WHO মানদণ্ডের (১৮.৫–২৪.৯) চেয়ে কম। গবেষণায় প্রমাণিত যে দক্ষিণ এশীয়দের শারীরিক গঠনে কম ওজনেও শরীরে চর্বির অনুপাত বেশি থাকে, যাকে "থিন-ফ্যাট ফেনোটাইপ" বলা হয়। এই কারণে বাংলাদেশিদের BMI ২৩.৯ হলেই সেই ডায়াবেটিস ঝুঁকি তৈরি হয় যা পশ্চিমা জনগোষ্ঠীতে BMI ৩০-এ দেখা দেয়।

BMI এবং শরীরের চর্বির মধ্যে পার্থক্য কী?

BMI শুধুমাত্র ওজন ও উচ্চতার অনুপাতের ওপর ভিত্তি করে — এটি সরাসরি শরীরের চর্বি পরিমাপ করে না। তাই যাদের পেশি বেশি (যেমন ক্রীড়াবিদ), তাদের BMI বেশি দেখালেও শরীরে চর্বি কম থাকতে পারে। আবার বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক BMI থাকলেও শরীরে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। সঠিক চর্বি পরিমাপের জন্য DEXA স্ক্যান, বায়োইলেকট্রিকাল ইম্পিড্যান্স বা স্কিনফোল্ড ক্যালিপার পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়।

পুরুষ ও নারীদের BMI কি আলাদা?

BMI-এর সূত্র ও শ্রেণিবিন্যাস পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য একই। তবে নারীদের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই পুরুষদের তুলনায় বেশি চর্বি ও কম পেশি থাকে। একই BMI-তে নারীদের শরীরে চর্বির শতকরা হার সাধারণত পুরুষদের চেয়ে বেশি হয়। স্বাস্থ্যকর চর্বির শতাংশ পুরুষদের জন্য ১০-২০% এবং নারীদের জন্য ১৮-২৮%।

উচ্চতা অনুযায়ী আমার ওজন কত হওয়া উচিত?

এশিয়ান BMI মানদণ্ড (১৮.৫–২২.৯) অনুসারে কিছু সাধারণ উচ্চতায় স্বাস্থ্যকর ওজন পরিসীমা: ৫ ফুট ০ ইঞ্চি (৪৩–৫৩ কেজি), ৫ ফুট ২ ইঞ্চি (৪৫–৫৬ কেজি), ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি (৪৯–৬০ কেজি), ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি (৫২–৬৪ কেজি), ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি (৫৫–৬৮ কেজি), ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (৫৯–৭৩ কেজি)। এগুলো সাধারণ নির্দেশিকা — আপনার আদর্শ ওজন পেশি ভর, শারীরিক গঠন ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও নির্ভর করে।

BMI ২৩-এর বেশি হলে কী করা উচিত?

এশিয়ান মানদণ্ডে BMI ২৩ বা তার বেশি মানে আপনি ওজনাধিক্যের শ্রেণিতে। প্রথমে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন এবং রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ পরীক্ষা করান। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন — প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টি ও ভাজা-পোড়া কমান। সপ্তাহে ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম শুরু করুন। গবেষণায় দেখা গেছে যে মাত্র ৫-১০% ওজন কমালেও ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

কেন এশিয়ানদের জন্য BMI-এর মানদণ্ড পশ্চিমাদের চেয়ে কম?

দক্ষিণ এশীয়দের (বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি) শারীরিক গঠন তুলনামূলকভাবে ছোট এবং ভিসেরাল ফ্যাট (পেটের অভ্যন্তরীণ চর্বি) বেশি জমা হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশীয়দের BMI ২৩.৯-এ পশ্চিমা জনগোষ্ঠীর BMI ৩০-এর সমান ডায়াবেটিস ঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণেই WHO এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের জন্য ওজনাধিক্যের সীমা ২৫-এর বদলে ২৩ এবং স্থূলতার সীমা ৩০-এর বদলে ২৫ নির্ধারণ করেছে।

BMI ১৮.৫-এর কম (কম ওজন) হলে কী বিপদ আছে?

কম ওজন বা BMI ১৮.৫-এর নিচে থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া, অ্যানিমিয়া (রক্তস্বল্পতা), অস্টিওপরোসিস (হাড় ক্ষয়), চুল পড়া, ক্লান্তি এবং প্রজনন সমস্যা দেখা দিতে পারে। BMI ১৬.০-এর নিচে (তীব্র ক্ষীণতা) মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশে BDHS ২০২২ অনুযায়ী এখনও প্রায় ১০% প্রজননক্ষম নারী কম ওজনের সমস্যায় ভুগছেন, গ্রামাঞ্চলে যার হার ১১.২%। ওজন বাড়াতে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার (দুধ, ডাল, ডিম, বাদাম) বাড়ান।

BMI এবং কোমরের পরিধি — কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

দুটোই গুরুত্বপূর্ণ এবং একসাথে ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। BMI সামগ্রিক শরীরের ভর নির্দেশ করে, আর কোমরের পরিধি পেটের চর্বি (ভিসেরাল ফ্যাট) পরিমাপ করে। পেটের চর্বি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক সিনড্রোমের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। এশিয়ান জনগোষ্ঠীর জন্য পুরুষদের কোমর ৯০ সেমি-এর কম এবং নারীদের ৮০ সেমি-এর কম হওয়া উচিত — এটি পশ্চিমা মানদণ্ডের (পুরুষ ১০২ সেমি, নারী ৮৮ সেমি) চেয়ে কঠোর।


প্রধান পরিভাষা

বডি মাস ইনডেক্স (BMI)

ওজন (কেজি) কে উচ্চতার (মিটার) বর্গ দিয়ে ভাগ করে প্রাপ্ত একটি সংখ্যা যা শরীরের ভর স্বাভাবিক কিনা তা নির্দেশ করে।

কম ওজন (Underweight)

BMI ১৮.৫-এর নিচে — শরীরের ওজন উচ্চতার অনুপাতে কম, যা অপুষ্টি বা অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

ওজনাধিক্য (Overweight)

এশিয়ান মানদণ্ডে BMI ২৩.০–২৪.৯ — শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

স্থূলতা (Obesity)

এশিয়ান মানদণ্ডে BMI ২৫.০ বা তার বেশি — শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমা হওয়া, যা ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

ভিসেরাল ফ্যাট

পেটের অভ্যন্তরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের চারপাশে জমে থাকা চর্বি। ত্বকের নিচের চর্বির তুলনায় এটি বিপাকীয় রোগের সাথে বেশি সম্পর্কিত এবং কোমরের পরিধি দিয়ে পরিমাপ করা হয়।

থিন-ফ্যাট ফেনোটাইপ

দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে প্রচলিত শারীরিক বৈশিষ্ট্য যেখানে স্বাভাবিক বা কম ওজন থাকা সত্ত্বেও শরীরে চর্বির অনুপাত বেশি এবং পেশির অনুপাত কম থাকে।

কোমরের পরিধি (ওয়েস্ট সার্কামফারেন্স)

নাভির সমতলে কোমরের চারপাশের মাপ। এশিয়ান পুরুষদের জন্য ৯০ সেমি এবং নারীদের জন্য ৮০ সেমি-এর বেশি হলে পেটের স্থূলতার ঝুঁকি নির্দেশ করে।