Smart Calculators

Smart

Calculators

দৌড়ের গতি ক্যালকুলেটর

আপনার দৌড়ের গতি, সময় বা দূরত্ব গণনা করুন। রিগেল সূত্র দিয়ে স্প্লিট, গতি এবং দৌড়ের পূর্বাভাস পান।

দৌড়ের গতি ক্যালকুলেটর। দুটি মান থেকে গতি, সময় ও দূরত্ব গণনা।
দৌড়ের গতি ক্যালকুলেটর অন্য দুটি মান দিলে আপনার পেস, সমাপ্তি সময় বা দূরত্ব বের করে এবং ফলাফল min/km ও min/mi উভয় ফরম্যাটে দেখায়। এটি রিগেল সূত্র ব্যবহার করে অন্য দূরত্বে দৌড়ের সময় পূর্বাভাস দেয় এবং প্রতি কিলোমিটার বা মাইলে স্প্লিট তালিকা তৈরি করে।

রানিং পেস ক্যালকুলেটর কী?

রানিং পেস ক্যালকুলেটর হলো একটি অনলাইন টুল যা আপনার দৌড়ের গতি (পেস), মোট সময় বা দূরত্ব হিসাব করে। পেস মানে হলো ১ কিলোমিটার দৌড়াতে কত মিনিট ও সেকেন্ড লাগে — যেমন ৫:৩০ মিনিট/কিমি মানে আপনি প্রতি কিলোমিটার ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে শেষ করছেন। পেস হলো স্পিডের বিপরীত: স্পিড বলে প্রতি ঘণ্টায় কত দূরত্ব অতিক্রম করেন (যেমন ১০.৯ কিমি/ঘণ্টা), আর পেস বলে প্রতি একক দূরত্বে কত সময় লাগে।
এই ক্যালকুলেটর ৫ কিমি, ১০ কিমি, হাফ ম্যারাথন (২১.০৯৭৫ কিমি) এবং ফুল ম্যারাথন (৪২.১৯৫ কিমি)-এর মতো প্রিসেট দূরত্বে তাৎক্ষণিক গণনা করে। এছাড়া রিগেল ফর্মুলা ব্যবহার করে আপনার একটি দৌড়ের পারফরম্যান্স থেকে অন্যান্য দূরত্বে সম্ভাব্য সময়ের পূর্বাভাস দেয়। আপনি বঙ্গবন্ধু ঢাকা ম্যারাথনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঢাকা ২৫কে-তে অংশ নেবেন, বা রানবাংলাদেশ রেসে দৌড়াবেন — এই টুল আপনার প্রশিক্ষণ পরিকল্পনার ভিত্তি।
দৌড়বিদদের জন্য পেস বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি প্রশিক্ষণ, রেস কৌশল এবং ফিটনেস ট্র্যাকিংয়ের মূল ভিত্তি। সঠিক পেস জানলে আপনি অতিরিক্ত ক্লান্তি এড়িয়ে আপনার লক্ষ্য সময় অর্জনের পরিকল্পনা করতে পারবেন।

দৌড়ের পেস, সময় ও দূরত্ব কীভাবে হিসাব করবেন

দৌড়ের পেস হিসাব করা সহজ: আপনার মোট দৌড়ের সময়কে অতিক্রান্ত দূরত্ব দিয়ে ভাগ করুন। তিনটি মূল সূত্র হলো:
১. পেস = মোট সময় ÷ দূরত্ব। যদি আপনি ১০ কিলোমিটার ৫৫ মিনিটে দৌড়ান, আপনার পেস হবে ৫৫ ÷ ১০ = ৫:৩০ প্রতি কিলোমিটার।
২. সময় = পেস × দূরত্ব। যদি আপনার লক্ষ্য পেস ৬:০০ মিনিট/কিমি হয় এবং আপনি ১০ কিমি দৌড়াবেন, আপনার সময় হবে ৬:০০ × ১০ = ৬০ মিনিট।
৩. দূরত্ব = মোট সময় ÷ পেস। যদি আপনি ৪৫ মিনিট দৌড়ান ৫:০০ মিনিট/কিমি পেসে, আপনি অতিক্রম করেছেন ৪৫ ÷ ৫ = ৯ কিলোমিটার।
পেস থেকে স্পিড বের করতে ৬০ কে পেস (মিনিটে) দিয়ে ভাগ করুন। ৫:০০ মিনিট/কিমি পেস মানে স্পিড = ৬০ ÷ ৫ = ১২ কিমি/ঘণ্টা। ৬:০০ মিনিট/কিমি পেস মানে স্পিড = ৬০ ÷ ৬ = ১০ কিমি/ঘণ্টা।
রেস টাইম প্রেডিকশনের জন্য রিগেল ফর্মুলা ব্যবহার করা হয়। এটি বিভিন্ন দূরত্বে দৌড়ের সময়ের পূর্বাভাস দেয় — দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে স্বাভাবিকভাবে পেস ধীর হয়, এবং রিগেল ফর্মুলা এই পরিবর্তনকে গাণিতিকভাবে প্রকাশ করে।

রিগেল ফর্মুলা — দৌড় সময়ের পূর্বাভাসের সূত্র

T2=T1×(D2D1)1.06T_2 = T_1 \times \left(\frac{D_2}{D_1}\right)^{1.06}
  • T1T_1 = প্রথম (জানা) দৌড়ের সময়
  • D1D_1 = প্রথম দৌড়ের দূরত্ব
  • T2T_2 = লক্ষ্য দূরত্বে আনুমানিক সময় (পূর্বাভাস)
  • D2D_2 = লক্ষ্য দৌড়ের দূরত্ব
  • 1.061.06 = ক্লান্তি সূচক — দূরত্ব বাড়ার সাথে গতি কমে যাওয়ার হার নির্দেশ করে
রিগেল ফর্মুলা ১৯৭৭ সালে পিটার রিগেল কর্তৃক উদ্ভাবিত এবং Runner's World ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। এটি বিশ্বব্যাপী দৌড় সময়ের পূর্বাভাসের জন্য সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত গাণিতিক মডেল। ১.০৬ সূচকটি ক্লান্তি ফ্যাক্টর — এটি নির্দেশ করে যে দূরত্ব দ্বিগুণ হলে গতি প্রায় ৬% কমে যায়।
এই ফর্মুলা সবচেয়ে নির্ভুল হয় যখন জানা দৌড় এবং লক্ষ্য দৌড়ের দূরত্বের মধ্যে খুব বেশি ব্যবধান নেই — যেমন ৫ কিমি থেকে ১০ কিমি, ১০ কিমি থেকে হাফ ম্যারাথন, বা হাফ ম্যারাথন থেকে ফুল ম্যারাথনের পূর্বাভাস সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য। ৫ কিমি থেকে সরাসরি ফুল ম্যারাথনের পূর্বাভাস কম নির্ভরযোগ্য কারণ ম্যারাথনে পুষ্টি, পেসিং শৃঙ্খলা ও সহনশীলতা বিশেষ ভূমিকা রাখে।
মৌলিক পেস গণনার সরল সূত্র:
P=TDP = \frac{T}{D}
S=DTS = \frac{D}{T}
এখানে P = পেস (সময়/দূরত্ব), S = স্পিড (দূরত্ব/সময়), T = মোট সময়, D = মোট দূরত্ব। পেস ও স্পিড একে অপরের বিপরীত — দ্রুত দৌড়বিদের পেস সংখ্যা কম (প্রতি কিমি কম মিনিট) কিন্তু স্পিড সংখ্যা বেশি (প্রতি ঘণ্টায় বেশি কিমি)।

দৌড়ের পেস হিসাবের উদাহরণ

উদাহরণ: বঙ্গবন্ধু ঢাকা ম্যারাথনে ৫ কিমি — ৩০ মিনিটের লক্ষ্য

আপনি বঙ্গবন্ধু ঢাকা ম্যারাথনের ৫ কিমি ইভেন্টে ৩০ মিনিটের মধ্যে শেষ করতে চান। প্রয়োজনীয় পেস: ৩০ ÷ ৫ = ৬:০০ মিনিট/কিমি। এই পেসে আপনার স্পিড হবে ১০ কিমি/ঘণ্টা। স্প্লিট টেবল অনুযায়ী: ১ কিমিতে ৬:০০, ২ কিমিতে ১২:০০, ৩ কিমিতে ১৮:০০, ৪ কিমিতে ২৪:০০, ৫ কিমিতে ৩০:০০। প্রশিক্ষণে সপ্তাহে ৩-৪ দিন ৬:১৫-৬:৩০ মিনিট/কিমি পেসে ইজি রান করুন এবং সপ্তাহে ১ দিন ৫:৩০-৫:৪৫ মিনিট/কিমি পেসে ইন্টারভাল সেশন করুন — এতে রেসের দিন ৬:০০ পেস ধরে রাখা অনেক সহজ হবে।

উদাহরণ: ১০ কিমি দৌড় থেকে হাফ ম্যারাথনের সময় পূর্বাভাস

আপনি সম্প্রতি একটি ১০ কিমি দৌড় ৫৫ মিনিটে (৩,৩০০ সেকেন্ড) শেষ করেছেন। এখন ঢাকা ২৫কে ইভেন্টের হাফ ম্যারাথনে (২১.০৯৭৫ কিমি) আপনার আনুমানিক সময় জানতে চান। রিগেল ফর্মুলা প্রয়োগ করি:
T₂ = ৩,৩০০ × (২১.০৯৭৫ ÷ ১০)^১.০৬ = ৩,৩০০ × ২.১০৯৭৫^১.০৬ = ৩,৩০০ × ২.২২১৩ = ৭,৩৩০ সেকেন্ড ≈ ২ ঘণ্টা ২ মিনিট ১০ সেকেন্ড।
আপনার ১০ কিমি পেস ছিল ৫:৩০ মিনিট/কিমি, এবং হাফ ম্যারাথনে আনুমানিক পেস হবে প্রায় ৫:৪৮ মিনিট/কিমি — প্রতি কিমিতে ১৮ সেকেন্ড ধীর, যা দূরত্ব দ্বিগুণের বেশি হওয়ায় জমা ক্লান্তির প্রতিফলন।

উদাহরণ: হাফ ম্যারাথন থেকে ফুল ম্যারাথনের পূর্বাভাস

আপনি সম্প্রতি একটি হাফ ম্যারাথন (২১.০৯৭৫ কিমি) ১ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটে (৬,৯০০ সেকেন্ড) শেষ করেছেন। ফুল ম্যারাথন (৪২.১৯৫ কিমি) পূর্বাভাস:
T₂ = ৬,৯০০ × (৪২.১৯৫ ÷ ২১.০৯৭৫)^১.০৬ = ৬,৯০০ × ২^১.০৬ = ৬,৯০০ × ২.০৮৪৮ = ১৪,৩৮৫ সেকেন্ড ≈ ৩ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড।
আপনার হাফ ম্যারাথন পেস ছিল ৫:২৮ মিনিট/কিমি, এবং ফুল ম্যারাথনে আনুমানিক পেস হবে প্রায় ৫:৪১ মিনিট/কিমি। বাংলাদেশের দৌড় সম্প্রদায়ে সাব-৪ (৪ ঘণ্টার নিচে) ম্যারাথন একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক — এই পূর্বাভাস অনুযায়ী আপনি ঠিক সেই সীমানায় আছেন।

দৌড়ের পেস উন্নত করার কার্যকর পরামর্শ

  • সাম্প্রতিক দৌড়ের ফলাফল ব্যবহার করুন: রিগেল ফর্মুলা সবচেয়ে নির্ভুল হয় যখন আপনি সাম্প্রতিক ২-৩ মাসের মধ্যে দৌড়ানো রেসের সময় ব্যবহার করেন। পুরনো রেসের ফলাফল আপনার বর্তমান ফিটনেস প্রতিফলিত নাও করতে পারে।
  • ইন্টারভাল ট্রেনিং করুন: ৪০০ বা ৮০০ মিটারের দ্রুত দৌড়ের পর বিশ্রাম নিন। সপ্তাহে ১-২ বার ইন্টারভাল সেশন আপনার VO₂max এবং গতি দুটোই উন্নত করে। হাতিরঝিল বা ঢাকার রামনা পার্কে ট্র্যাক রান এর জন্য আদর্শ।
  • রেসে রক্ষণশীলভাবে শুরু করুন: প্রায় ৯০% বিনোদনমূলক ম্যারাথন দৌড়বিদ পজিটিভ স্প্লিট চালান (দ্বিতীয়ার্ধ ধীর)। প্রথম ২-৩ কিমি আপনার লক্ষ্য পেসের চেয়ে ৫-১০ সেকেন্ড/কিমি ধীরে দৌড়ান, তারপর লক্ষ্য পেসে স্থিতু হন।
  • আবহাওয়া ও পরিবেশ বিবেচনা করুন: ঢাকার উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় (বিশেষ করে মার্চ-অক্টোবর) পেস ১৫-৩০ সেকেন্ড/কিমি ধীর হতে পারে। এই কারণে বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যারাথন শীতকালে (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়। গ্রীষ্মে সকাল ৫-৬টায় দৌড়ানো উত্তম।
  • ১০% নিয়ম মেনে চলুন: প্রতি সপ্তাহে মোট দৌড়ের দূরত্ব ১০%-এর বেশি বাড়াবেন না। হঠাৎ দূরত্ব বাড়ানো ইনজুরির সবচেয়ে বড় কারণ — বিশেষ করে হাঁটু ও গোড়ালিতে।
  • স্প্লিট টেবল ব্যবহার করুন: আপনার রেসকে কিলোমিটার-দর-কিলোমিটার চেকপয়েন্টে ভাগ করুন। প্রতিটি মার্কারে আপনার সময় পরীক্ষা করলে বুঝতে পারবেন আপনি লক্ষ্যের চেয়ে এগিয়ে আছেন নাকি পিছিয়ে — শুরুতে অতিরিক্ত দ্রুত দৌড়ানো রোধ করা যায়।
  • সপ্তাহে একদিন লং রান করুন: দীর্ঘ দৌড় (long run) আপনার সহনশীলতা বাড়ায় এবং শরীরকে দীর্ঘ দূরত্বের জন্য প্রস্তুত করে। লং রানের পেস আপনার রেস পেসের চেয়ে ৪৫-৯০ সেকেন্ড/কিমি ধীর হওয়া উচিত।

দৌড়ের পেস সম্পর্কে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

নতুন দৌড়বিদের জন্য ভালো পেস কত?

নতুন দৌড়বিদের জন্য ৬:৩০ থেকে ৮:০০ মিনিট/কিমি একটি স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর পেস। এতে ৫ কিমি দৌড় ৩২:৩০ থেকে ৪০:০০ মিনিটে শেষ হবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন রানার্স কমিউনিটিতে (যেমন রান বাংলাদেশ, স্ট্রাইড বাংলাদেশ) নতুন সদস্যদের জন্য ৭:০০-৭:৩০ মিনিট/কিমি একটি সাধারণ শুরুর পেস। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো এমন গতিতে দৌড়ানো যাতে আপনি কথা বলতে পারেন — একে "কথোপকথন পেস" বলা হয়।

পেস এবং স্পিডের মধ্যে পার্থক্য কী?

পেস বলে ১ কিমি দৌড়াতে কত সময় লাগে (যেমন ৫:৩০ মিনিট/কিমি), আর স্পিড বলে ১ ঘণ্টায় কত দূরত্ব অতিক্রম হয় (যেমন ১০.৯ কিমি/ঘণ্টা)। দুটো একে অপরের বিপরীত (inverse)। রূপান্তর: স্পিড (কিমি/ঘণ্টা) = ৬০ ÷ পেস (মিনিট/কিমি)। তাই ৫:০০ মিনিট/কিমি পেস = ১২ কিমি/ঘণ্টা, এবং ৬:০০ মিনিট/কিমি পেস = ১০ কিমি/ঘণ্টা। দৌড়বিদরা সাধারণত পেস ব্যবহার করেন কারণ এটি প্রশিক্ষণ ও রেসে ট্র্যাক করা সহজ।

রিগেল ফর্মুলা কতটা নির্ভুল?

রিগেল ফর্মুলা ৫ কিমি থেকে হাফ ম্যারাথন পর্যন্ত দূরত্বে সবচেয়ে নির্ভুল এবং অভিজ্ঞ দৌড়বিদদের ক্ষেত্রে এর ত্রুটি মাত্র ২-৫%। তবে ৫ কিমি থেকে সরাসরি ফুল ম্যারাথনের পূর্বাভাস কম নির্ভরযোগ্য কারণ ম্যারাথনে পুষ্টি গ্রহণ, পেসিং কৌশল ও সহনশীলতা প্রশিক্ষণ বিশেষ ভূমিকা রাখে যা ছোট দূরত্বে পরীক্ষিত হয় না। সেরা ফলাফলের জন্য সাম্প্রতিক (২-৩ মাসের মধ্যে) এবং কাছাকাছি দূরত্বের রেসের সময় ব্যবহার করুন।

৫ কিমিতে ২৫ মিনিটে শেষ করতে কত পেস দরকার?

৫ কিমি ২৫ মিনিটে শেষ করতে আপনার পেস হতে হবে ৫:০০ মিনিট/কিমি (২৫ ÷ ৫ = ৫:০০)। এই পেসে আপনার স্পিড হবে ১২ কিমি/ঘণ্টা। এটি মধ্যবর্তী স্তরের দৌড়বিদদের জন্য একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে সপ্তাহে ৩-৪ বার প্রশিক্ষণ করুন — ১ দিন ইন্টারভাল সেশন (১ কিমি × ৫ রিপিট, ৪:৪৫ পেসে), ১ দিন টেম্পো রান (৩ কিমি, ৫:১০ পেসে) এবং বাকি দিন ইজি রান।

ফুল ম্যারাথন (৪২.১৯৫ কিমি) ৪ ঘণ্টায় শেষ করতে কী পেস লাগবে?

ফুল ম্যারাথন ৪ ঘণ্টায় (২৪০ মিনিট) শেষ করতে গড় পেস হতে হবে ৫:৪১ মিনিট/কিমি বা তার চেয়ে দ্রুত। রিগেল ফর্মুলা অনুসারে এর জন্য আনুমানিক হাফ ম্যারাথন সময় প্রায় ১:৫২-১:৫৫, ১০ কিমি সময় প্রায় ৫০-৫২ মিনিট, এবং ৫ কিমি সময় প্রায় ২৪-২৫ মিনিট প্রয়োজন। বাংলাদেশের দৌড় সম্প্রদায়ে সাব-৪ ম্যারাথন একটি অত্যন্ত সম্মানজনক অর্জন।

স্প্লিট টেবল কী এবং কীভাবে ব্যবহার করবেন?

স্প্লিট টেবল আপনার পুরো দৌড়কে কিলোমিটার-দর-কিলোমিটার ভেঙে দেখায়, প্রতিটি মার্কারে আপনার প্রত্যাশিত সংযোজিত সময় উল্লেখ করে। যেমন ৫:৩০ মিনিট/কিমি পেসে ১০ কিমি দৌড়ের স্প্লিট: ১ কিমিতে ৫:৩০, ২ কিমিতে ১১:০০, ৫ কিমিতে ২৭:৩০, ১০ কিমিতে ৫৫:০০। রেসের আগে আপনার লক্ষ্য সময়ের ভিত্তিতে স্প্লিট টেবল তৈরি করুন এবং ঘড়িতে বা ফোনে সংরক্ষণ করুন। দৌড়ের সময় প্রতিটি কিমি মার্কারে টেবলের সাথে মিলিয়ে দেখুন — ১০-১৫ সেকেন্ডের বেশি এগিয়ে থাকলে গতি কমান।

বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় কীভাবে দৌড়ের প্রস্তুতি নেব?

বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে (মার্চ-অক্টোবর) তাপমাত্রা ৩০-৩৮°C এবং আর্দ্রতা ৭০-৯০% থাকে, যা দৌড়ের পেসকে ১৫-৩০ সেকেন্ড/কিমি পর্যন্ত ধীর করতে পারে। সকাল ৫-৬টায় দৌড়ান যখন তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে। পর্যাপ্ত পানি পান করুন — দৌড়ের আগে ৫০০ মিলি এবং প্রতি ২০ মিনিটে ১৫০-২০০ মিলি। গ্রীষ্মে আপনার লক্ষ্য পেসে ২০-৪০ সেকেন্ড/কিমি ছাড় দিন। এই কারণেই বঙ্গবন্ধু ঢাকা ম্যারাথন জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয়।

কিলোমিটার এবং মাইলে পেস কীভাবে রূপান্তর করবেন?

মিনিট/কিমি থেকে মিনিট/মাইলে রূপান্তর করতে পেসকে (সেকেন্ডে) ১.৬০৯৩৪ দিয়ে গুণ করুন। যেমন ৫:০০ মিনিট/কিমি = ৩০০ সেকেন্ড × ১.৬০৯৩৪ = ৪৮৩ সেকেন্ড = ৮:০৩ মিনিট/মাইল। বিপরীতে, মিনিট/মাইল থেকে মিনিট/কিমিতে যেতে ১.৬০৯৩৪ দিয়ে ভাগ করুন। আমাদের ক্যালকুলেটর স্বয়ংক্রিয়ভাবে উভয় এককে রূপান্তর প্রদান করে।


প্রধান পরিভাষা

পেস (Pace)

এক একক দূরত্ব (১ কিমি বা ১ মাইল) অতিক্রম করতে যে সময় লাগে তা মিনিট:সেকেন্ড/কিমি বা মিনিট:সেকেন্ড/মাইলে প্রকাশ করা হয়। সংখ্যা কম মানে দৌড় দ্রুত।

স্প্লিট (Split)

দৌড়ের প্রতিটি নির্দিষ্ট অংশে (যেমন প্রতি কিমি) লেগে যাওয়া সময়। ইভেন স্প্লিট মানে সব কিমি সমান গতিতে, নেগেটিভ স্প্লিট মানে পরের কিমিগুলো দ্রুত।

রিগেল ফর্মুলা (Riegel Formula)

১৯৭৭ সালে পিটার রিগেল কর্তৃক উদ্ভাবিত গাণিতিক সূত্র যা একটি দৌড়ের পারফরম্যান্স থেকে অন্য দূরত্বে সম্ভাব্য সময়ের পূর্বাভাস দেয়: T₂ = T₁ × (D₂/D₁)^১.০৬।

ক্লান্তি সূচক (Fatigue Factor)

রিগেল ফর্মুলায় ১.০৬ মান যা দূরত্ব বাড়ার সাথে পেস স্বাভাবিকভাবে ধীর হওয়ার হার নির্দেশ করে। স্বল্প-দূরত্বের দৌড়বিদদের জন্য ১.০৩-১.০৫ এবং আল্ট্রা-দৌড়বিদদের জন্য ১.০৭-১.১০ হতে পারে।

নেগেটিভ স্প্লিট (Negative Split)

একটি পেসিং কৌশল যেখানে দৌড়ের দ্বিতীয়ার্ধ প্রথমার্ধের চেয়ে দ্রুত দৌড়ানো হয়। এটি শক্তি সংরক্ষণ করে এবং শক্তিশালী ফিনিশ নিশ্চিত করে।

টেম্পো রান (Tempo Run)

একটি প্রশিক্ষণ দৌড় যা ল্যাকটেট থ্রেশোল্ড পেসে (৫ কিমি রেস পেসের চেয়ে ২৫-৩০ সেকেন্ড/কিমি ধীর) ২০-৪০ মিনিট চালানো হয়। এটি সহনশীলতা ও দীর্ঘ দূরত্বে দ্রুত পেস ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়।

VO₂max

ব্যায়ামের সময় শরীর সর্বোচ্চ যে পরিমাণ অক্সিজেন ব্যবহার করতে পারে তার পরিমাপ (মিলি/কেজি/মিনিট)। উচ্চতর VO₂max মানে উন্নত এরোবিক ফিটনেস এবং সাধারণত দ্রুততর দৌড়ের পেস।