ভ্যাট ক্যালকুলেটর
তৎক্ষণাৎ ভ্যাট গণনা করুন। 30+ দেশের জন্য স্বয়ংক্রিয় হার শনাক্তকরণ সহ যেকোনো মূল্যে কর যোগ বা বাদ দিন।
ভ্যাট ক্যালকুলেটর কী?
কিভাবে ভ্যাট হিসাব করতে হয়?
ভ্যাট গণনার সূত্র
- = ভ্যাটের পরিমাণ (টাকায়)
- = মূল দাম (ভ্যাট ছাড়া, নেট প্রাইস)
- = ভ্যাট হার দশমিকে (যেমন ১৫% = 0.15, ৫% = 0.05)
ভ্যাট হিসাবের বাস্তব উদাহরণ
দোকানদার: ৳50,000 টাকার ল্যাপটপে ভ্যাট-সহ বিল তৈরি
ক্রেতা: ৳2,300 টাকার রেস্তোরাঁ বিল থেকে ভ্যাট বের করা
ফ্রিল্যান্সার: ৳1,00,000 টাকার সেবায় ভ্যাট ইনভয়েস তৈরি
ভ্যাট হিসাবের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
- সঠিক ভ্যাট হার জানুন। বাংলাদেশে মানক হার ১৫%, তবে কিছু পণ্য ও সেবায় ৫% বা ৭.৫% হ্রাসকৃত হার প্রযোজ্য। যেমন ওষুধ শিল্পে ৫%, রেফ্রিজারেটরে ৭.৫%। ভুল হারে ভ্যাট আদায় করলে জরিমানা ও সুদ দিতে হতে পারে।
- রিভার্স ভ্যাটে ভুল করবেন না। ভ্যাট-সহ দাম থেকে সরাসরি ১৫% বাদ দেওয়া একটি খুব সাধারণ ভুল। সঠিক পদ্ধতি হলো মোট দামকে ১.১৫ দিয়ে ভাগ করা, অথবা (দাম × ১৫) ÷ ১১৫ সূত্র ব্যবহার করা।
- ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটের সুবিধা নিন। আপনি ব্যবসায়িক ক্রয়ে যে ভ্যাট পরিশোধ করেছেন, তা আপনার বিক্রয়ে আদায় করা ভ্যাট থেকে বাদ দিতে পারেন। এজন্য সকল ক্রয় চালান BIN-ধারী বিক্রেতার কাছ থেকে নিন।
- মাসিক ভ্যাট রিটার্ন (মূসক ৯.১) পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে দাখিল করুন। দেরি হলে প্রতিদিন ৳1,000 টাকা জরিমানা আরোপিত হয়।
- টার্নওভার ট্যাক্স বিবেচনা করুন। বাৎসরিক টার্নওভার ৳30-50 লক্ষ হলে ১৫% ভ্যাটের পরিবর্তে মাত্র ৩% টার্নওভার ট্যাক্স দিতে হয়। এটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক সাশ্রয়ী।
- চালানে (মূসক ৬.৩) সবসময় ভ্যাটের পরিমাণ আলাদাভাবে উল্লেখ করুন এবং সঠিক HS কোড বা সেবা কোড ব্যবহার করুন। ভুল কোড ব্যবহারে ক্রেতার ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট বাতিল হতে পারে।
ভ্যাট সম্পর্কিত সচরাচর জিজ্ঞাসা
বাংলাদেশে ভ্যাটের হার কত?
বাংলাদেশে মানক ভ্যাট হার ১৫%। তবে কিছু নির্দিষ্ট পণ্য ও সেবায় হ্রাসকৃত হার প্রযোজ্য: ওষুধ শিল্পে ৫%, পাট শিল্পে ৪%, টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতে ৭.৫%। এ ছাড়া চাল, ডাল, সবজি, মাছ, মাংসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যে ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে। ২০২৫ সালের সংশোধনীতে রেস্তোরাঁ, নন-এসি হোটেল ও স্থানীয় পোশাক ব্র্যান্ডে আগের ৫-৭.৫% থেকে বাড়িয়ে ১৫% করা হয়েছে।
ভ্যাট-সহ দাম থেকে ভ্যাট কিভাবে বের করব?
ভ্যাট-সহ দাম থেকে ভ্যাট বের করতে দামকে (১ + ভ্যাট হার/১০০) দিয়ে ভাগ করুন। ১৫% ভ্যাটের জন্য সহজ সূত্র: (ভ্যাট-সহ দাম × ১৫) ÷ ১১৫ = ভ্যাটের পরিমাণ। উদাহরণ: ৳5,750 টাকার পণ্যে ভ্যাট = (৳5,750 × 15) ÷ 115 = ৳750। মূল দাম = ৳5,750 - ৳750 = ৳5,000। সরাসরি ১৫% বাদ দেওয়া (৳5,750 × 0.15 = ৳862.50) ভুল — এতে ৳112.50 টাকা বেশি বাদ হয়ে যায়।
ভ্যাট নিবন্ধন (BIN) কখন বাধ্যতামূলক?
বাংলাদেশে ভ্যাট নিবন্ধন (BIN - Business Identification Number) বাধ্যতামূলক যদি বাৎসরিক টার্নওভার ৳80 লক্ষের বেশি হয়। ৳30 লক্ষ থেকে ৳80 লক্ষের মধ্যে টার্নওভার হলে তালিকাভুক্তি (Enlistment) প্রয়োজন। ৳30 লক্ষের নিচে থাকলে ভ্যাট নিবন্ধন বা তালিকাভুক্তি কোনোটিই বাধ্যতামূলক নয়, তবে টেন্ডারে অংশগ্রহণ বা আমদানি-রপ্তানির জন্য ভ্যাট নিবন্ধন থাকা আবশ্যক।
টার্নওভার ট্যাক্স কী এবং এটি ভ্যাট থেকে কীভাবে আলাদা?
টার্নওভার ট্যাক্স হলো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ভ্যাটের একটি সরলীকৃত বিকল্প। বাৎসরিক টার্নওভার ৳30 লক্ষ থেকে ৳50 লক্ষের মধ্যে হলে ১৫% ভ্যাটের পরিবর্তে মাত্র ৩% টার্নওভার ট্যাক্স দিতে হয়। তবে এই ব্যবস্থায় ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট দাবি করা যায় না। উদাহরণ: ৳40 লক্ষ টার্নওভারে ৩% টার্নওভার ট্যাক্স = ৳1,20,000, যেখানে ১৫% ভ্যাটে (ইনপুট ক্রেডিট ছাড়া) ৳6,00,000 দিতে হতো।
কোন কোন পণ্য ও সেবায় ভ্যাট অব্যাহতি আছে?
বাংলাদেশে বেশ কিছু পণ্য ও সেবায় ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে। প্রধান অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্যের মধ্যে রয়েছে: চাল, গম, আটা, ময়দা, লবণ, ভোজ্য তেল, চিনি, ডাল, মসলা, শাকসবজি, মাছ, মাংস, দুধ ও শিশুখাদ্য। সেবার মধ্যে শিক্ষা সেবা, স্বাস্থ্যসেবা (হাসপাতাল ও ক্লিনিক), কৃষি সেবা এবং জনস্বার্থে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কিছু সেবাও অব্যাহতিপ্রাপ্ত।
ভ্যাট রিটার্ন কখন ও কিভাবে দাখিল করতে হয়?
ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিটি ব্যবসাকে প্রতি মাসের ভ্যাট রিটার্ন (মূসক ৯.১) পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অনলাইনে দাখিল করতে হয়। রিটার্ন দাখিলের জন্য NBR-এর ই-ভ্যাট পোর্টালে (vat.gov.bd) লগইন করে মাসিক বিক্রয়, ক্রয়, ইনপুট ট্যাক্স এবং প্রদেয় ভ্যাটের তথ্য পূরণ করতে হয়। সময়মতো দাখিল না করলে প্রতিদিন ৳1,000 টাকা জরিমানা আরোপিত হয়।
ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট কী?
ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট হলো সেই ব্যবস্থা যেখানে আপনি ব্যবসায়িক ক্রয়ে পরিশোধিত ভ্যাট আপনার বিক্রয়ে আদায় করা ভ্যাট থেকে বাদ দিতে পারেন। উদাহরণ: আপনি ৳2,00,000 টাকার কাঁচামাল কিনলেন (৳30,000 ভ্যাট) এবং ৳3,00,000 টাকায় পণ্য বিক্রি করলেন (৳45,000 ভ্যাট)। আপনার প্রদেয় ভ্যাট = ৳45,000 - ৳30,000 = ৳15,000। ইনপুট ক্রেডিট পেতে ক্রয় চালান অবশ্যই BIN-ধারী বিক্রেতার কাছ থেকে হতে হবে।
উৎসে ভ্যাট কর্তন (VDS) কী?
উৎসে ভ্যাট কর্তন (VAT Deducted at Source / VDS) হলো সেই ব্যবস্থা যেখানে ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান বিক্রেতাকে মূল্য পরিশোধের সময় নির্ধারিত হারে ভ্যাট কেটে রাখে এবং সরকারি কোষাগারে জমা দেয়। সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বিমা কোম্পানি এবং নির্দিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ VDS কর্তনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। VDS হার সাধারণত সেবা কোড অনুযায়ী ১০% থেকে ১৫% পর্যন্ত হয়ে থাকে।
ভ্যাট সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা
ভ্যাট / মূসক (মূল্য সংযোজন কর)
পণ্য ও সেবার সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে আরোপিত পরোক্ষ কর। বাংলাদেশে মানক হার ১৫% এবং এটি মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
BIN (Business Identification Number)
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) কর্তৃক প্রদত্ত ৯ সংখ্যার একক শনাক্তকরণ নম্বর, যা ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিটি ব্যবসার জন্য বাধ্যতামূলক। বাৎসরিক টার্নওভার ৳80 লক্ষের বেশি হলে BIN নিতে হয়।
ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট
ব্যবসায়িক ক্রয়ে পরিশোধিত ভ্যাট বিক্রয়ে আদায় করা ভ্যাট থেকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা। এতে শুধুমাত্র মূল্য সংযোজনের (Value Addition) উপরই ভ্যাট দিতে হয়।
টার্নওভার ট্যাক্স
বাৎসরিক টার্নওভার ৳30-50 লক্ষের মধ্যে থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সরলীকৃত কর ব্যবস্থা। ১৫% ভ্যাটের পরিবর্তে মাত্র ৩% হারে কর দিতে হয়, তবে ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট দাবি করা যায় না।
উৎসে ভ্যাট কর্তন (VDS)
ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিক্রেতার পাওনা থেকে নির্ধারিত হারে ভ্যাট কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা। সরকারি, আধা-সরকারি ও নির্দিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠান VDS কর্তনে বাধ্য।
মূসক ৬.৩ (চালান)
ভ্যাট নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের পণ্য বা সেবা বিক্রির সময় ইস্যু করা সরকার-নির্ধারিত ভ্যাট চালান। এতে মূল দাম, ভ্যাটের পরিমাণ, BIN নম্বর ও পণ্য/সেবার HS কোড উল্লেখ করতে হয়।
সম্পূরক শুল্ক
ভ্যাটের উপর অতিরিক্ত আরোপিত কর যা বিলাস ও ক্ষতিকর পণ্যে (যেমন সিগারেট, মদ, এনার্জি ড্রিংকস, বিলাসবহুল গাড়ি) প্রযোজ্য। সম্পূরক শুল্ক ভ্যাট প্রযোজ্য হওয়ার আগে মূল্যের সাথে যোগ হয়।
