Smart Calculators

Smart

Calculators

ক্রাউডফান্ডিং ROI ক্যালকুলেটর

ক্রাউডফান্ডিং প্রকল্পে বিনিয়োগের রিটার্ন গণনা করুন। নিট মুনাফা, বার্ষিক ROI এবং ফি অনুমান করুন।

ক্রাউডফান্ডিং ROI ক্যালকুলেটর। ফি ও কর কাটার পর নিট মুনাফা, বার্ষিক রিটার্ন ও ইক্যুইটি মাল্টিপল।
ক্রাউডফান্ডিং ROI ক্যালকুলেটর প্ল্যাটফর্ম ফি, প্রবেশ খরচ ও মূলধনী লাভ কর বাদ দিয়ে আপনার প্রকৃত বিনিয়োগ রিটার্ন অনুমান করে। এটি নিট মুনাফা, বার্ষিক ROI ও ইক্যুইটি মাল্টিপল গণনা করে যাতে আপনি ক্রাউডফান্ডিং প্রকল্পগুলো তুলনা করতে পারেন।

ক্রাউডফান্ডিং ROI কী?

ক্রাউডফান্ডিং ROI (রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট) হলো একটি ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে করা বিনিয়োগের লাভজনকতা পরিমাপক, যা মূল বিনিয়োগের শতাংশ হিসেবে প্রকাশ করা হয়। এটি প্ল্যাটফর্ম ফি, প্রবেশ খরচ এবং প্রযোজ্য কর বাদ দিয়ে একজন বিনিয়োগকারী প্রকৃতপক্ষে কত নিট মুনাফা ঘরে নিয়ে যাবেন তা নির্ধারণ করে।
প্রচলিত শেয়ারবাজার বিনিয়োগের বিপরীতে, ক্রাউডফান্ডিং ROI হিসাবে এই বিনিয়োগ মাধ্যমের একাধিক স্তরের খরচ বিবেচনা করতে হয়। প্ল্যাটফর্ম ম্যানেজমেন্ট ফি সাধারণত বার্ষিক ১-৫% হয়ে থাকে, প্রবেশ বা অরিজিনেশন ফি ০.৫-২% যোগ করতে পারে এবং বাংলাদেশে মূলধনী লাভের উপর ১৫% কর আরও রিটার্ন কমিয়ে দেয়। একটি প্রকল্প যদি বার্ষিক ১২% রিটার্নের বিজ্ঞাপন দেয়, সব খরচ বাদ দিলে প্রকৃত রিটার্ন ৭-৯%-এ নেমে আসতে পারে, তাই মূলধন বিনিয়োগের আগে সঠিক ROI হিসাব অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশে ক্রাউডফান্ডিং এখনও একটি উদীয়মান খাত। চলো সবাই, অপরাজয়, গোফান্ডবিডি এবং বাংলাফান্ডিং-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো মূলত দাতব্য ও পুরস্কার-ভিত্তিক ক্রাউডফান্ডিংয়ে সক্রিয়। বিনিয়োগ-ভিত্তিক ক্রাউডফান্ডিং এখনও নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে ওঠার পর্যায়ে রয়েছে। স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড — সরকারের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড — সীড স্টেজে সর্বোচ্চ ৳১ কোটি এবং গ্রোথ স্টেজে ৳৫ কোটি পর্যন্ত বিনিয়োগ করে। এই ক্যালকুলেটর যেকোনো ক্রাউডফান্ডিং বা স্টার্টআপ বিনিয়োগের ROI মূল্যায়নে কাজে আসবে।

ক্রাউডফান্ডিং ROI কীভাবে হিসাব করবেন

ক্রাউডফান্ডিং ROI হিসাব করতে আপনাকে সমস্ত ফি ও কর বাদ দেওয়ার পর নিট মুনাফা নির্ধারণ করতে হবে এবং সেটিকে প্রাথমিক বিনিয়োগের শতাংশ হিসেবে প্রকাশ করতে হবে। ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া:
1. মোট প্রকল্প মূল্য নির্ধারণ করুন এবং আপনার বিনিয়োগের পরিমাণকে প্রকল্প মূল্য দিয়ে ভাগ করে আপনার অংশগ্রহণ শতাংশ বের করুন।
2. প্রত্যাশিত বার্ষিক রিটার্ন হার আপনার বিনিয়োগে প্রয়োগ করে, ধারণ সময়কালে চক্রবৃদ্ধি হিসেবে গ্রস রিটার্ন গণনা করুন।
3. প্ল্যাটফর্ম ম্যানেজমেন্ট ফি বাদ দিন (সাধারণত বার্ষিক ১-৩%)।
4. বিনিয়োগের সময় ধার্য করা প্রবেশ বা অরিজিনেশন ফি বাদ দিন।
5. আপনার মুনাফার উপর প্রযোজ্য কর গণনা করুন। বাংলাদেশে ৳৫০ লাখের উপরে মূলধনী লাভে ১৫% কর প্রযোজ্য এবং নিট সম্পদ ৳৪ কোটির বেশি হলে ১০-৩৫% সারচার্জ যোগ হয়।
6. অবশিষ্ট নিট মুনাফাকে আপনার মূল বিনিয়োগ দিয়ে ভাগ করে সাধারণ ROI শতাংশ পান।
7. বিভিন্ন ধারণ সময়ের বিনিয়োগ তুলনা করতে ROI-কে বার্ষিক ভিত্তিতে রূপান্তর করুন।
সম্পূর্ণ চিত্র পেতে ইক্যুইটি মাল্টিপলও (মোট প্রাপ্ত অর্থ ভাগ মোট বিনিয়োগকৃত অর্থ) গণনা করুন। সাধারণ ROI, বার্ষিক ROI এবং ইক্যুইটি মাল্টিপল — এই তিনটি মেট্রিক একসাথে ব্যবহার করলে একটি ক্রাউডফান্ডিং চুক্তির প্রকৃত কার্যকারিতার স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়, যা আমাদের উপরের ক্যালকুলেটর স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণনা করে দেয়।

ক্রাউডফান্ডিং ROI সূত্র

ROI=Net ProfitInvestment×100ROI = \frac{\text{Net Profit}}{\text{Investment}} \times 100
  • Net Profit\text{Net Profit} = গ্রস রিটার্ন থেকে প্ল্যাটফর্ম ফি, প্রবেশ ফি এবং কর বাদ দেওয়ার পর নিট মুনাফা
  • Investment\text{Investment} = প্রকল্পে আপনার বিনিয়োগকৃত মোট মূলধন
  • Gross Return\text{Gross Return} = বিনিয়োগে বার্ষিক রিটার্ন হার প্রয়োগ করে ধারণ সময়কালে চক্রবৃদ্ধি মোট আয়
  • Platform Fee\text{Platform Fee} = ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম কর্তৃক বার্ষিক ম্যানেজমেন্ট ফি (সাধারণত ১-৫%)
  • Entry Fee\text{Entry Fee} = বিনিয়োগের সময় একবার ধার্য করা অরিজিনেশন বা সাবস্ক্রিপশন ফি (সাধারণত ০-২%)
  • Tax\text{Tax} = মুনাফার উপর প্রযোজ্য মূলধনী লাভ কর (বাংলাদেশে ৳৫০ লাখের উপরে ১৫%)
বার্ষিক ROI বিনিয়োগের ধারণ সময়কালের জন্য সামঞ্জস্য করে, যা বিভিন্ন সময়ের প্রকল্পগুলো সমান ভিত্তিতে তুলনা করতে সাহায্য করে:
ROIannualized=(1+Net ProfitInvestment)12months1ROI_{\text{annualized}} = \left(1 + \frac{\text{Net Profit}}{\text{Investment}}\right)^{\frac{12}{\text{months}}} - 1
ইক্যুইটি মাল্টিপল আরেকটি দৃষ্টিকোণ প্রদান করে, আপনার বিনিয়োগকৃত মূলধন কতগুণ ফেরত পেয়েছেন তা পরিমাপ করে:
Equity Multiple=Investment+Net ProfitInvestment\text{Equity Multiple} = \frac{\text{Investment} + \text{Net Profit}}{\text{Investment}}
১.৫x ইক্যুইটি মাল্টিপল মানে প্রতি ৳১ বিনিয়োগে আপনি ৳১.৫০ ফেরত পেয়েছেন। বাংলাদেশের স্টার্টআপ বিনিয়োগে সাধারণত ৩-৭ বছরের ধারণ সময়ে ১.৩x থেকে ২.০x ইক্যুইটি মাল্টিপল লক্ষ্যমাত্রা থাকে। ৫ বছরে ২.০x মাল্টিপল প্রায় ১৪.৯% বার্ষিক ROI-এর সমতুল্য, আবার ৩ বছরে একই ২.০x প্রায় ২৬% বার্ষিক ROI দেয় — যা দেখায় মোট রিটার্নের মতো ধারণ সময়কালও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রাউডফান্ডিং ROI-এর বাস্তব উদাহরণ

ঢাকায় স্টার্টআপ ইক্যুইটি বিনিয়োগ

আপনি ৳৫,০০,০০০ বিনিয়োগ করলেন একটি ৳৫০,০০,০০০ মূল্যের ঢাকাভিত্তিক ফিনটেক স্টার্টআপে, যা আপনাকে ১০% মালিকানা দেয়। প্রকল্পটি ৩৬ মাসে বার্ষিক ১২% রিটার্ন লক্ষ্যমাত্রা রাখে। আপনার গ্রস রিটার্ন হবে প্রায় ৳২,০২,৪৮০। প্ল্যাটফর্ম বার্ষিক ২% ম্যানেজমেন্ট ফি নেয়, যা ৩ বছরে প্রায় ৳৩২,২৫০। প্রবেশ ফি ১% অর্থাৎ ৳৫,০০০। ফি বাদে মুনাফা ৳১,৬৫,২৩০। মুনাফা ৳৫০ লাখের নিচে হওয়ায় মূলধনী লাভ কর শূন্য। আপনার নিট মুনাফা ৳১,৬৫,২৩০, সাধারণ ROI ৩৩.০%, বার্ষিক ROI ১০.০% এবং ইক্যুইটি মাল্টিপল ১.৩৩x। বিজ্ঞাপিত ১২% রিটার্ন ফি বাদে কার্যত ১০%-এ নেমে এসেছে।

ই-কমার্স প্রকল্পে ডেট-ভিত্তিক বিনিয়োগ

আপনি ৳১০,০০,০০০ বিনিয়োগ করলেন একটি ৳১,০০,০০,০০০ মূল্যের ই-কমার্স লজিস্টিক প্রকল্পে যা ১৮ মাসে বার্ষিক ১০% সুদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। আপনার গ্রস রিটার্ন ৳১,৫৫,৬৯০। প্ল্যাটফর্ম ২.৫% বার্ষিক ফি নেয়, যা এই সময়ে প্রায় ৳৩৯,১৯০। প্রবেশ ফি নেই। ফি বাদে মুনাফা ৳১,১৬,৫০০। কর করমুক্ত সীমার মধ্যে। নিট মুনাফা ৳১,১৬,৫০০, সাধারণ ROI ১১.৭%, বার্ষিক ROI ৭.৬% এবং ইক্যুইটি মাল্টিপল ১.১২x। ডেট-ভিত্তিক বিনিয়োগে সুদ নির্দিষ্ট থাকায় ক্যাশ ফ্লো অপেক্ষাকৃত নিশ্চিত, তবে ইক্যুইটি বিনিয়োগের মতো বড় রিটার্নের সুযোগ কম।

রিয়েল এস্টেট ক্রাউডফান্ডিং প্রকল্প

আপনি ৳২০,০০,০০০ বিনিয়োগ করলেন একটি ৳২,০০,০০,০০০ মূল্যের চট্টগ্রামের আবাসন উন্নয়ন প্রকল্পে, যা ৪৮ মাসে বার্ষিক ১৫% রিটার্ন লক্ষ্য করে। আপনার গ্রস রিটার্ন ৳১৪,৯৮,০০০। প্ল্যাটফর্ম ১.৫% বার্ষিক ম্যানেজমেন্ট ফি নেয় (৪ বছরে ৳১,২৮,৬৫০) এবং ১% প্রবেশ ফি (৳২০,০০০)। ফি বাদে মুনাফা ৳১৩,৪৯,৩৫০। যেহেতু মুনাফা ৳৫০ লাখের নিচে, কর শূন্য। নিট মুনাফা ৳১৩,৪৯,৩৫০, সাধারণ ROI ৬৭.৫%, বার্ষিক ROI ১৩.৭% এবং ইক্যুইটি মাল্টিপল ১.৬৭x। বিজ্ঞাপিত ১৫% বার্ষিক রিটার্ন ফি বাদে ১৩.৭%-এ নেমে আসে — তারপরও এটি ব্যাংক এফডিআরের (৯-১১%) চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

ক্রাউডফান্ডিং ROI সর্বোচ্চ করার কৌশল

  • শুধু বিজ্ঞাপিত রিটার্ন নয়, মোট ফি কাঠামো তুলনা করুন। ১২% রিটার্ন ও ৩% বার্ষিক ফি সহ একটি প্রকল্প, ৯% রিটার্ন ও ০.৫% ফি সহ প্রকল্পের চেয়ে খারাপ ফলাফল দিতে পারে। বহু বছরের ধারণে ফি পার্থক্য চক্রবৃদ্ধির কারণে বিশাল হয়ে দাঁড়ায়।
  • বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প ও প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ ছড়িয়ে দিন। ইক্যুইটি ডিল (বেশি সম্ভাবনা, বেশি ঝুঁকি), ডেট বিনিয়োগ (স্থির আয়, কম সীমা) এবং বিভিন্ন খাতে মূলধন বণ্টন করুন। বাংলাদেশে ফিনটেক, ই-কমার্স ও রিয়েল এস্টেট সবচেয়ে সক্রিয় ক্রাউডফান্ডিং খাত।
  • তারল্য ঝুঁকি বিবেচনা করুন। অধিকাংশ ক্রাউডফান্ডিং বিনিয়োগে ১-৭ বছর মূলধন আটকে থাকে। ৫ বছরের অতরল বিনিয়োগে ১০% বার্ষিক ROI তুলনা করুন তরল বিকল্পের সাথে — যেমন বাংলাদেশে সঞ্চয়পত্রে ১১-১২% পাওয়া যায় এবং ব্যাংক এফডিআরে ৯-১১%।
  • বাংলাদেশ ব্যাংকের স্টার্টআপ ঋণ সুবিধা সম্পর্কে জানুন। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক ৳৫০০ কোটি স্টার্টআপ তহবিল থেকে মাত্র ৪% সুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। উদ্যোক্তা হিসেবে এই সুযোগ ক্রাউডফান্ডিংয়ের তুলনায় সাশ্রয়ী মূলধনের উৎস হতে পারে।
  • প্রিফার্ড রিটার্ন ও ওয়াটারফল স্ট্রাকচার বুঝে নিন। অনেক ক্রাউডফান্ডিং ডিলে ৮-১০% প্রিফার্ড রিটার্ন থাকে, যেখানে স্পনসর তাদের লাভ নেওয়ার আগে বিনিয়োগকারীরা প্রথমে অর্থ পান। পেআউট কাঠামো সরাসরি আপনার ROI-কে প্রভাবিত করে।
  • প্রকল্পের ক্যাপিটাল স্ট্যাকে আপনার অবস্থান যাচাই করুন। সিনিয়র ডেট সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ (প্রথমে পরিশোধ হয়), কমন ইক্যুইটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ (সর্বশেষে পরিশোধ হয়)। আপনার অবস্থান নির্ধারণ করে প্রকল্প ব্যর্থ হলে আপনার টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু।
  • বাংলাদেশে ক্রাউডফান্ডিংয়ের নিয়ন্ত্রক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করুন। BSEC (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন) ক্রাউডফান্ডিং সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরি করছে। নিয়ন্ত্রক কাঠামো চূড়ান্ত হলে বিনিয়োগকারী সুরক্ষা বাড়বে এবং এই খাতে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমবে।

ক্রাউডফান্ডিং ROI সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসা

ক্রাউডফান্ডিং বিনিয়োগে ভালো ROI কত?

ক্রাউডফান্ডিং বিনিয়োগে ফি ও কর বাদে ভালো নিট ROI সাধারণত বার্ষিক ৬% থেকে ১২%। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি তুলনা করতে হবে স্থানীয় বিকল্পের সাথে: ব্যাংক এফডিআরে ৯-১১%, সঞ্চয়পত্রে ১১-১২%, এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (DSE) ঐতিহাসিকভাবে গড়ে ৮-১৫% রিটার্ন। ইক্যুইটি ক্রাউডফান্ডিংয়ে সফল প্রকল্পে ২০%-এর বেশি রিটার্ন সম্ভব, তবে অধিকাংশ স্টার্টআপ বিনিয়োগে আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।

প্ল্যাটফর্ম ফি কীভাবে আমার ROI কমিয়ে দেয়?

প্ল্যাটফর্ম ফি আপনার গ্রস রিটার্নের ১০% থেকে ৪০% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বার্ষিক ৮% গ্রস রিটার্নে ২% ম্যানেজমেন্ট ফি আপনার রিটার্নের ২৫% প্রতি বছর নিয়ে নেয়। ৫ বছরের ধারণে ৳১০,০০,০০০ বিনিয়োগে এই ২% ফি মুনাফা ৳৪,৬৯,৩০০ থেকে ৳৩,৩৮,২০০-তে নামিয়ে আনে — প্রায় ৳১,৩১,১০০ পার্থক্য। তাই বিনিয়োগের আগে সর্বদা সব ফি বাদে নিট রিটার্ন হিসাব করুন।

বাংলাদেশে ক্রাউডফান্ডিং বিনিয়োগে কত কর দিতে হয়?

বাংলাদেশে ক্রাউডফান্ডিং রিটার্নের উপর কর নির্ভর করে রিটার্নের ধরনের উপর। তালিকাভুক্ত শেয়ার বিক্রয় থেকে মূলধনী লাভ ৳৫০ লাখ পর্যন্ত করমুক্ত; এর উপরে ১৫% কর প্রযোজ্য। ডেট-ভিত্তিক বিনিয়োগ থেকে সুদ আয় সাধারণ আয়কর হারে (১০-৩০%) করযোগ্য। নিট সম্পদ ৳৪ কোটির বেশি হলে ১০% থেকে ৩৫% পর্যন্ত সারচার্জ যোগ হয়। এছাড়া ব্যাংকের মাধ্যমে সুদ আয়ে উৎসে কর কর্তন (TDS) প্রযোজ্য।

ইক্যুইটি মাল্টিপল কী এবং ROI-এর সাথে এর সম্পর্ক কী?

ইক্যুইটি মাল্টিপল হলো বিনিয়োগকারীকে ফেরত দেওয়া মোট অর্থ ভাগ বিনিয়োগকৃত মোট অর্থ। ১.৫x ইক্যুইটি মাল্টিপল মানে আপনি প্রতি ৳১ বিনিয়োগে ৳১.৫০ ফেরত পেয়েছেন, অর্থাৎ ৫০% মোট রিটার্ন। বার্ষিক ROI-এর বিপরীতে, ইক্যুইটি মাল্টিপল সময় বিবেচনা করে না — ২ বছরে ১.৫x অনেক ভালো ৮ বছরে ১.৫x-এর চেয়ে। উভয় মেট্রিক একসাথে ব্যবহার করুন: ইক্যুইটি মাল্টিপল মোট লাভ দেখায় এবং বার্ষিক ROI মূলধনের দক্ষতা পরিমাপ করে।

বাংলাদেশে ক্রাউডফান্ডিং নাকি সঞ্চয়পত্র — কোনটি ভালো বিনিয়োগ?

সঞ্চয়পত্র সরকার গ্যারান্টিযুক্ত, প্রায় ঝুঁকিমুক্ত এবং ১১-১২% মুনাফা দেয়, তবে বিনিয়োগ সীমা আছে (ব্যক্তি প্রতি ৳৭.৫ লাখ পর্যন্ত)। ক্রাউডফান্ডিং বেশি রিটার্ন (১০-২০%+) লক্ষ্য করে কিন্তু ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি — প্রকল্প ব্যর্থ হলে মূলধন হারানোর সম্ভাবনা থাকে। অধিকাংশ বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীর জন্য সর্বোত্তম কৌশল হলো: প্রথমে সঞ্চয়পত্রের সীমা পূরণ করুন, তারপর ঝুঁকি নেওয়ার সামর্থ্য থাকলে উদ্বৃত্ত মূলধন ক্রাউডফান্ডিংয়ে বিনিয়োগ করুন।

ক্রাউডফান্ডিং প্রকল্প ব্যর্থ হলে আমার বিনিয়োগের কী হবে?

প্রকল্প ব্যর্থ হলে আপনি আংশিক বা সম্পূর্ণ বিনিয়োগ হারাতে পারেন। ইক্যুইটি বিনিয়োগে বিনিয়োগকারীরা ক্যাপিটাল স্ট্যাকে সর্বশেষ — ঋণদাতা ও সুরক্ষিত পাওনাদারদের পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পদ পান, যা প্রায়ই শূন্য হয়। ডেট-ভিত্তিক বিনিয়োগে ইক্যুইটি ধারকদের আগে অগ্রাধিকার থাকায় আংশিক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বেশি। বাংলাদেশে ক্রাউডফান্ডিং নিয়ন্ত্রণ এখনও শক্তিশালী হয়নি, তাই প্রকল্পের যাচাই-বাছাই বিনিয়োগকারীর নিজের দায়িত্ব।

ক্রাউডফান্ডিং রিটার্ন পেতে কত সময় লাগে?

সময়সীমা বিনিয়োগের ধরনের উপর নির্ভর করে। ডেট-ভিত্তিক বিনিয়োগে সাধারণত ১-৩ মাসের মধ্যে মাসিক বা ত্রৈমাসিক সুদ পাওয়া শুরু হয় এবং ৬-২৪ মাসে মূলধন ফেরত আসে। ইক্যুইটি রিয়েল এস্টেট ডিলে ত্রৈমাসিক ভাড়া আয় বণ্টিত হতে পারে, তবে মূলধন ফেরত পেতে ৩-৭ বছর লাগতে পারে। স্টার্টআপ ইক্যুইটিতে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় লাগে — অধিগ্রহণ বা আইপিও-র মাধ্যমে এক্সিট সাধারণত ৫-১০ বছরে হয়। সর্বদা আপনার তারল্য প্রয়োজনের সাথে বিনিয়োগের সময়সীমা মেলান।

এই ক্যালকুলেটর কি স্টার্টআপ ইক্যুইটি বিনিয়োগের জন্যও ব্যবহার করা যায়?

হ্যাঁ, এই ক্যালকুলেটর যেকোনো ক্রাউডফান্ডিং বিনিয়োগে কাজ করে যেখানে প্রত্যাশিত বার্ষিক রিটার্ন অনুমান করা যায়। স্টার্টআপ ইক্যুইটি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে, কোম্পানির পোস্ট-মানি ভ্যালুয়েশন মোট প্রকল্প মূল্য হিসেবে, আপনার বিনিয়োগ পরিমাণ এবং লক্ষ্য বার্ষিক রিটার্ন হিসেবে ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন স্টার্টআপ রিটার্ন অত্যন্ত অনিশ্চিত — অধিকাংশ স্টার্টআপ ব্যর্থ হয়, আবার সফল এক্সিটে ৫x থেকে ১০০x-এর বেশি রিটার্ন সম্ভব। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে (হতাশাবাদী, মাঝারি, আশাবাদী) হিসাব করে সম্ভাব্য ফলাফলের একটি পরিসর দেখুন।


ক্রাউডফান্ডিং বিনিয়োগের মূল পরিভাষা

ইক্যুইটি মাল্টিপল

বিনিয়োগকারীকে প্রদত্ত মোট নগদ বণ্টন এবং মোট বিনিয়োগকৃত মূলধনের অনুপাত। ২.০x মাল্টিপল মানে বিনিয়োগের পুরো মেয়াদে আপনার টাকা দ্বিগুণ হয়েছে।

বার্ষিক ROI

এক বছরের ভিত্তিতে স্বাভাবিকীকৃত বিনিয়োগ রিটার্ন, যা বিভিন্ন সময়কালের বিনিয়োগ তুলনা করতে সাহায্য করে। CAGR (কম্পাউন্ড অ্যানুয়াল গ্রোথ রেট) নামেও পরিচিত।

প্রিফার্ড রিটার্ন

একটি সর্বনিম্ন রিটার্ন সীমা (সাধারণত ৮-১০%) যা ডিল স্পনসর তাদের লাভের অংশ নেওয়ার আগে বিনিয়োগকারীরা পান। ক্রাউডফান্ডিং ও রিয়েল এস্টেট ডিলে সাধারণ।

ক্যাপিটাল স্ট্যাক

একটি প্রকল্পে অর্থায়ন উৎসের ক্রমানুসার — সিনিয়র ডেট (সর্বনিম্ন ঝুঁকি, প্রথমে পরিশোধ) থেকে কমন ইক্যুইটি (সর্বোচ্চ ঝুঁকি, সর্বশেষে পরিশোধ)। আপনার অবস্থান ঝুঁকি ও সম্ভাব্য রিটার্ন নির্ধারণ করে।

প্ল্যাটফর্ম ফি

ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম কর্তৃক বিনিয়োগ পরিচালনার জন্য ধার্য করা বার্ষিক ম্যানেজমেন্ট বা উপদেষ্টা ফি। সাধারণত ১% থেকে ৫% পর্যন্ত হয়ে থাকে।

মূলধনী লাভ কর

বিনিয়োগ সম্পদ (শেয়ার, সম্পত্তি, ইক্যুইটি) বিক্রয় থেকে অর্জিত মুনাফার উপর প্রযোজ্য কর। বাংলাদেশে ৳৫০ লাখের উপরে মূলধনী লাভে ১৫% কর প্রযোজ্য।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল

প্রাথমিক পর্যায়ের বা উচ্চ প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনাময় স্টার্টআপে বিনিয়োগ করা মূলধন। বাংলাদেশে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড সরকারের প্রধান ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড।