Smart Calculators

Smart

Calculators

ঋণ তুলনা

৩টি ঋণ পরিকল্পনা পাশাপাশি তুলনা করুন। কোন ঋণে মোট সুদ কম তা দেখুন এবং সেরা চুক্তি খুঁজুন।

লোন তুলনা ক্যালকুলেটর। একসাথে ৩টি পর্যন্ত লোন অফার পাশাপাশি তুলনা করুন।
লোন তুলনা ক্যালকুলেটর একসঙ্গে একাধিক লোন অফার মূল্যায়ন করে প্রতিটি বিকল্পের মাসিক কিস্তি, মোট সুদ এবং মোট খরচ প্রদর্শন করে। এটি সমান কিস্তি ও ক্রমহ্রাসমান কিস্তি উভয় পদ্ধতি সমর্থন করে যাতে সুদের হার, মেয়াদ ও পরিশোধ কাঠামো অনুযায়ী সবচেয়ে সস্তা লোন চিহ্নিত করা যায়।

লোন তুলনা ক্যালকুলেটর কী?

লোন তুলনা ক্যালকুলেটর হলো একটি আর্থিক টুল যা একসাথে ৩টি পর্যন্ত ঋণের অফার পাশাপাশি তুলনা করে, প্রতিটি অফারের মাসিক কিস্তি (EMI), মোট সুদ এবং মোট খরচ তাৎক্ষণিকভাবে দেখায় — যাতে আপনি সবচেয়ে সাশ্রয়ী অফারটি চিহ্নিত করতে পারেন।
বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণের অফার নেওয়ার সময় পার্থক্যগুলো সূক্ষ্ম কিন্তু ব্যয়বহুল হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ৳৫,০০,০০০ টাকার ব্যক্তিগত ঋণ ১১% সুদে ৩ বছরের জন্য নিলে মোট সুদ হবে প্রায় ৳৯১,৫০০ — কিন্তু একই পরিমাণ ৯.৫% সুদে ৫ বছরের জন্য নিলে মোট সুদ দাঁড়ায় ৳১,৩০,৫০০। কম সুদের হার সত্ত্বেও দীর্ঘ মেয়াদের কারণে প্রায় ৳৩৯,০০০ বেশি খরচ হচ্ছে। এই ধরনের লুকানো পার্থক্য লোন তুলনা ক্যালকুলেটর তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করে।
অধিকাংশ তুলনামূলক টুল শুধুমাত্র সমান কিস্তি (EMI) পদ্ধতির ঋণ সমর্থন করে। কিন্তু আমাদের ক্যালকুলেটর ক্রমহ্রাসমান কিস্তি পদ্ধতিও সমর্থন করে। আপনি এমনকি এক ব্যাংকের সমান কিস্তির অফারকে অন্য ব্যাংকের ক্রমহ্রাসমান কিস্তির অফারের সাথে তুলনা করতে পারবেন — যেটি বাংলাদেশের অন্য কোনো ক্যালকুলেটরে সাধারণত পাওয়া যায় না।

কীভাবে ঋণের অফার ধাপে ধাপে তুলনা করবেন

ঋণের অফার তুলনা করতে হলে শুধু মাসিক কিস্তি বা সুদের হার আলাদাভাবে দেখলে চলবে না — সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। নিচে পদ্ধতিগতভাবে একাধিক ঋণ তুলনা করার ধাপগুলো দেওয়া হলো:
1. প্রতিটি ঋণের মূল তথ্য সংগ্রহ করুন: মূলধন (ঋণের পরিমাণ), বার্ষিক সুদের হার, মেয়াদ (বছর বা মাসে) এবং কিস্তির পদ্ধতি (সমান কিস্তি নাকি ক্রমহ্রাসমান কিস্তি)।
2. প্রতিটি ঋণের মাসিক কিস্তি হিসাব করুন। সমান কিস্তি (EMI) পদ্ধতিতে পুরো মেয়াদে একই কিস্তি থাকে। ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে মূলধনকে মোট মাস দিয়ে ভাগ করে প্রতি মাসে অবশিষ্ট মূলধনের উপর সুদ যোগ করা হয়।
3. প্রতিটি ঋণের মোট সুদ হিসাব করুন — পুরো মেয়াদে সকল সুদ পরিশোধের যোগফল, অথবা মোট পরিশোধিত অর্থ থেকে মূলধন বাদ দিন।
4. মোট খরচ নির্ধারণ করুন: মূলধন + মোট সুদ + অতিরিক্ত ফি (প্রসেসিং ফি, সার্ভিস চার্জ ইত্যাদি)।
5. তিনটি পরিমাপক পাশাপাশি তুলনা করুন: মাসিক কিস্তি, মোট সুদ এবং মোট খরচ। সাধারণত সবচেয়ে কম মোট খরচের ঋণটিই সেরা — তবে আপনার মাসিক নগদ প্রবাহ কতটা স্বচ্ছন্দ থাকবে সেটিও বিবেচনা করুন।
উদাহরণস্বরূপ, ধরুন আপনি ৳৪,০০,০০০ টাকার ব্যক্তিগত ঋণের জন্য তিনটি অফার পেয়েছেন। ব্র্যাক ব্যাংক: ১২% সুদে ৩ বছর (সমান কিস্তি), সিটি ব্যাংক: ১০.৫% সুদে ৫ বছর (সমান কিস্তি), ইসলামী ব্যাংক: ১১% মুনাফায় ৪ বছর (ক্রমহ্রাসমান কিস্তি)। মাসিক কিস্তি যথাক্রমে ৳১৩,২৮৫, ৳৮,৫৮২ এবং ৳১১,৯৭২ (প্রথম মাস, ক্রমহ্রাসমান)। কিন্তু মোট সুদ যথাক্রমে ৳৭৮,২৫০, ৳১,১৪,৯০০ এবং ৳৯১,৬৭০। ব্র্যাক ব্যাংকের অফার সামগ্রিকভাবে সাশ্রয়ী — উচ্চ মাসিক কিস্তি সত্ত্বেও।

ঋণ তুলনার সূত্রসমূহ

M=P×r(1+r)n(1+r)n1M = P \times \frac{r(1 + r)^n}{(1 + r)^n - 1}
  • MM = সমান মাসিক কিস্তির পরিমাণ (EMI পদ্ধতি)
  • PP = ঋণের মূলধন (ধার করা মোট পরিমাণ)
  • rr = মাসিক সুদের হার (বার্ষিক হার ÷ ১২)
  • nn = মোট কিস্তির সংখ্যা (মাসে)
এই সূত্রটি সমান কিস্তি (EMI) পদ্ধতির ঋণের জন্য স্থির মাসিক কিস্তি হিসাব করে। প্রতিটি কিস্তিতে সেই মাসের সুদ এবং মূলধনের একটি অংশ অন্তর্ভুক্ত থাকে, এবং শেষ কিস্তির পর ঋণের ব্যালেন্স শূন্য হয়ে যায়।
ক্রমহ্রাসমান কিস্তি পদ্ধতিতে প্রতি মাসের কিস্তি হিসাব করা হয় এভাবে:
Mk=Pn+(PP×(k1)n)×rM_k = \frac{P}{n} + \left(P - \frac{P \times (k - 1)}{n}\right) \times r
যেখানে k হলো কিস্তি নম্বর (১ থেকে n পর্যন্ত)। প্রথম অংশ হলো স্থির মূলধন অংশ এবং দ্বিতীয় অংশ হলো অবশিষ্ট ব্যালেন্সের উপর সুদ — যা প্রতি মাসে কমতে থাকে।
ঋণ ন্যায্যভাবে তুলনা করতে প্রতিটি অফারের জন্য এই পরিমাপকগুলো হিসাব করুন:
Total Interest (EMI)=M×nP\text{Total Interest (EMI)} = M \times n - P
Total Interest (Decreasing)=P×r×(n+1)2\text{Total Interest (Decreasing)} = \frac{P \times r \times (n + 1)}{2}
Total Cost=P+Total Interest+Fees\text{Total Cost} = P + \text{Total Interest} + \text{Fees}
সবচেয়ে কম মোট খরচের ঋণটি খাঁটি সঞ্চয়ের দিক থেকে সেরা। তবে নগদ প্রবাহ আপনার অগ্রাধিকার হলে, সবচেয়ে কম মাসিক কিস্তির ঋণটি ভালো পছন্দ হতে পারে — সামগ্রিকভাবে বেশি খরচ হলেও।

ঋণ তুলনার বাস্তব উদাহরণ

দুটি ব্যক্তিগত ঋণের অফার তুলনা: ৩ বছর বনাম ৫ বছর মেয়াদ

আপনি ৳৩,০০,০০০ টাকার ব্যক্তিগত ঋণের জন্য দুটি অফার পেয়েছেন। অফার ক (ব্র্যাক ব্যাংক): ১১.৫% সুদে ৩ বছর। অফার খ (সিটি ব্যাংক): ৯.৮% সুদে ৫ বছর। প্রথম দেখায় অফার ক-এর মাসিক কিস্তি বেশি: ৳৯,৮৮৫ বনাম ৳৬,৩৩৪। কিন্তু মোট সুদের হিসাব একেবারে ভিন্ন চিত্র দেখায়। অফার ক-তে মোট সুদ ৳৫৫,৮৬০। অফার খ-তে মোট সুদ ৳৮০,০৪০ — প্রায় দেড় গুণ। অফার ক-এর মোট খরচ ৳৩,৫৫,৮৬০ বনাম অফার খ-এর ৳৩,৮০,০৪০। অফার ক বেছে নিলে আপনি ৳২৪,১৮০ সাশ্রয় করবেন — যদিও প্রতি মাসে কিছুটা বেশি দিতে হবে। এটি প্রমাণ করে যে শুধু মাসিক কিস্তি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়, মোট খরচ তুলনা করা সবচেয়ে জরুরি।

গাড়ি লোন: সমান কিস্তি বনাম ক্রমহ্রাসমান কিস্তি

আপনি ৳৮,০০,০০০ টাকার গাড়ি লোন নিচ্ছেন ১০.৫% সুদে ৫ বছরের মেয়াদে। ব্যাংক দুটি পরিশোধ পদ্ধতি অফার করছে। সমান কিস্তি (EMI) পদ্ধতিতে প্রতি মাসে ৳১৭,২০৪ করে ৬০ মাস দিতে হবে, মোট সুদ ৳২,৩২,২৪০। ক্রমহ্রাসমান কিস্তি পদ্ধতিতে প্রথম মাসে কিস্তি ৳২০,৩৩৩ — কিন্তু এটি প্রতি মাসে কমতে থাকে, শেষ মাসে মাত্র ৳১৩,৪৫০। মোট সুদ ৳২,১৩,৫০০ — অর্থাৎ ৳১৮,৭৪০ সাশ্রয়। ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে প্রথম বছরে প্রতি মাসে প্রায় ৳৩,০০০ বেশি দিতে হবে, কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোতে কিস্তি ক্রমশ সহজ হয়ে আসে। আপনার আয় যদি প্রথম দিকে বেশি কিস্তি বহন করতে পারে, ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতি আর্থিকভাবে সুবিধাজনক।

তিনটি ব্যাংকের গৃহঋণ অফার তুলনা

আপনি ৳১৫,০০,০০০ টাকার গৃহঋণের জন্য তিনটি অফার পেয়েছেন। ডাচ-বাংলা ব্যাংক (DBBL): ৯.৫% সুদে ১০ বছর, সমান কিস্তি। ইসলামী ব্যাংক: ১০% মুনাফায় ১৫ বছর, সমান কিস্তি। ইস্টার্ন ব্যাংক (EBL): ১০.২৫% সুদে ১২ বছর, ক্রমহ্রাসমান কিস্তি। ক্যালকুলেটরে এগুলো প্রবেশ করালে দেখা যায়: DBBL-এ কিস্তি ৳১৯,৩৬৮ ও মোট সুদ ৳৮,২৪,১৬০। ইসলামী ব্যাংকে কিস্তি ৳১৬,১১৯ ও মোট সুদ ৳১৪,০২,১৪০। EBL-এ প্রথম কিস্তি ৳২৩,০৫৭ (ক্রমহ্রাসমান) ও মোট সুদ ৳৯,৩২,১৯০। DBBL-এর অফার সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে কম খরচে পড়ে, কিন্তু মাসিক কিস্তি তুলনামূলকভাবে বেশি। ইসলামী ব্যাংকের কিস্তি কম — কিন্তু ১৫ বছরের দীর্ঘ মেয়াদে মোট সুদ প্রায় ৳৫,৭৮,০০০ বেশি। আপনার আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।

সেরা ঋণের অফার বেছে নেওয়ার কৌশল

  • চুক্তি স্বাক্ষরের আগে কমপক্ষে ৩টি ব্যাংকের অফার তুলনা করুন। বাংলাদেশে ২০২৬ সালে ব্যক্তিগত ঋণের সুদের হার ৯% থেকে ১৪% পর্যন্ত হতে পারে। মাত্র ১-২% সুদের পার্থক্য ৳৫,০০,০০০ টাকার ঋণে ৳৩০,০০০-৳৮০,০০০ টাকা সাশ্রয় করতে পারে।
  • শুধু মাসিক কিস্তি নয়, মোট খরচের দিকে মনোযোগ দিন। কম মাসিক কিস্তি সাধারণত দীর্ঘ মেয়াদ এবং বেশি মোট সুদ বোঝায়। ৳৪,০০,০০০ টাকার ঋণ ১১% সুদে ৩ বছরে মোট সুদ ৳৭১,০০০, কিন্তু ৫ বছরে ৳১,২১,০০০ — মাত্র ২ বছর বেশি মেয়াদে ৭০% বেশি সুদ।
  • প্রসেসিং ফি এবং অতিরিক্ত চার্জ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন। বাংলাদেশের অনেক ব্যাংক ঋণের পরিমাণের ১-৩% প্রসেসিং ফি নেয়। ৳৫,০০,০০০ টাকার ঋণে ২% প্রসেসিং ফি মানে ৳১০,০০০ অতিরিক্ত খরচ — যা সুদের হারের সাথে যোগ করলে কার্যকর হার আরও বেড়ে যায়।
  • কিস্তির পদ্ধতি সম্পর্কে জানুন। বাংলাদেশের অধিকাংশ ব্যাংক সমান কিস্তি (EMI) পদ্ধতি ব্যবহার করে। কিন্তু কিছু ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্রমহ্রাসমান কিস্তি পদ্ধতিও অফার করে। ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে মোট সুদ কম হয় — আপনি যদি শুরুতে বেশি কিস্তি দিতে পারেন তাহলে এটি সুবিধাজনক।
  • ঋণ আগাম পরিশোধে জরিমানা আছে কিনা যাচাই করুন। কিছু ব্যাংক নির্ধারিত মেয়াদের আগে ঋণ শোধ করলে জরিমানা আরোপ করে। আগাম পরিশোধের পরিকল্পনা থাকলে এমন ব্যাংক এড়িয়ে চলুন।
  • বাংলাদেশ ব্যাংকের SMART রেট সম্পর্কে জানুন। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ফর্মুলায় ভোক্তা ঋণে সুদের হার সর্বোচ্চ ১২% পর্যন্ত হতে পারে। ব্যাংকগুলোর কাছে হালনাগাদ রেট জেনে নিন।
  • আপনার নগদ প্রবাহ বিবেচনা করুন। গাণিতিকভাবে সবচেয়ে সস্তা ঋণটিই সবসময় সেরা নয়। মাসিক কিস্তি যদি আপনার আয়ের ৩০%-এর বেশি হয়, তাহলে কিস্তি দিতে গিয়ে অন্যান্য খরচে চাপ পড়তে পারে। এমন কিস্তি বেছে নিন যা আপনার মাসিক আয়ের ২০-৩০%-এর মধ্যে থাকে।

ঋণ তুলনা সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসা

ভিন্ন মেয়াদ ও সুদের হারের ঋণ কীভাবে তুলনা করবো?

ভিন্ন মেয়াদ ও সুদের হারের ঋণ তুলনা করতে প্রতিটি অফারের তিনটি পরিমাপক হিসাব করুন: মাসিক কিস্তি, মোট সুদ এবং মোট খরচ (মূলধন + সুদ + ফি)। একটি তুলনা ক্যালকুলেটরে প্রতিটি ঋণের পরিমাণ, সুদের হার ও মেয়াদ প্রবেশ করিয়ে পাশাপাশি ফলাফল দেখুন। সবচেয়ে কম মোট খরচের ঋণটি সাধারণত সেরা। যেমন, ৳৩,০০,০০০ টাকার ঋণ ১০% সুদে ৩ বছরে মোট সুদ ৳৪৮,৫০০, কিন্তু ১২% সুদে ৫ বছরে মোট সুদ ৳১,০০,০৪০ — ছোট মেয়াদের ঋণ ৳৫১,৫৪০ সাশ্রয় করে।

কম সুদের হার মানেই কি সবসময় সস্তা ঋণ?

না। কম সুদের হার সবসময় সস্তা ঋণ বোঝায় না। ঋণের মেয়াদ সুদের হারের মতোই গুরুত্বপূর্ণ, কখনো বেশিও। ৫ বছর মেয়াদে ৯.৫% সুদে ঋণ ৩ বছর মেয়াদে ১১.৫% সুদের চেয়ে বেশি সুদ খরচ করতে পারে — কারণ দীর্ঘ সময় ধরে সুদ জমা হতে থাকে। এছাড়া প্রসেসিং ফি (সাধারণত ঋণের ১-৩%) কম সুদের হারের সুবিধা কমিয়ে দিতে পারে। সবসময় মোট খরচ তুলনা করুন, শুধু সুদের হার নয়।

সমান কিস্তি (EMI) এবং ক্রমহ্রাসমান কিস্তির মধ্যে পার্থক্য কী?

সমান কিস্তি (EMI) পদ্ধতিতে পুরো মেয়াদ জুড়ে প্রতি মাসে একই পরিমাণ কিস্তি দিতে হয়, যা বাজেট করতে সুবিধাজনক। ক্রমহ্রাসমান কিস্তি পদ্ধতিতে মূলধনের অংশ প্রতি মাসে সমান থাকে, কিন্তু সুদের অংশ কমতে থাকে — ফলে কিস্তি ধীরে ধীরে কমে যায়। ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে সবসময় মোট সুদ কম হয়, কারণ মূলধন দ্রুত কমে। ৳৫,০০,০০০ টাকার ঋণ ১০% সুদে ৫ বছরে — সমান কিস্তিতে মোট সুদ ৳১,৩৭,৪৮০, ক্রমহ্রাসমানে ৳১,২৭,০৮০ — ৳১০,৪০০ সাশ্রয়।

সবচেয়ে কম মাসিক কিস্তি নাকি সবচেয়ে কম মোট খরচ — কোনটি বেছে নেবো?

এটি আপনার আর্থিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। যদি আপনার লক্ষ্য সামগ্রিকভাবে কম খরচ করা হয়, তাহলে সবচেয়ে কম মোট খরচের ঋণ বেছে নিন — এটি সাধারণত স্বল্প মেয়াদের ঋণ। যদি মাসিক নগদ প্রবাহ চাপে থাকে, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে কম কিস্তি প্রয়োজন হতে পারে — সামগ্রিকভাবে বেশি খরচ হলেও। একটি ভালো নিয়ম হলো মাসিক কিস্তি আপনার মাসিক আয়ের ২০-৩০%-এর মধ্যে রাখা এবং সেই সীমার মধ্যে সবচেয়ে ছোট মেয়াদ বেছে নেওয়া।

বাংলাদেশে ব্যাংক ঋণে সুদের হার কত?

২০২৬ সালে বাংলাদেশে ব্যাংক ঋণের সুদের হার ঋণের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়। ব্যক্তিগত ঋণে সুদের হার সাধারণত ৯-১৪%, গাড়ি লোনে ৯-১২%, এবং গৃহঋণে ৯-১১%। বাংলাদেশ ব্যাংকের SMART রেট ফর্মুলায় ভোক্তা ঋণে সুদের হার সর্বোচ্চ ১২% নির্ধারিত হয়েছে। তবে প্রকৃত হার ব্যাংক, ঋণগ্রহীতার ক্রেডিট রেটিং এবং জামানতের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। সেরা রেটের জন্য একাধিক ব্যাংকে খোঁজ নিন।

ছোট মেয়াদের ঋণ বেছে নিলে কতটুকু সাশ্রয় হয়?

ছোট মেয়াদের ঋণে সাশ্রয় যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য হতে পারে। ৳৫,০০,০০০ টাকার ঋণ ১১% সুদে — ৩ বছর মেয়াদে মোট সুদ ৳৯১,৫০০ বনাম ৫ বছর মেয়াদে ৳১,৫৫,৯০০ — সাশ্রয় প্রায় ৳৬৪,৪০০ (৪২% কম সুদ)। ৳৮,০০,০০০ টাকার গাড়ি লোনে ১০% সুদে ৪ বছর বনাম ৬ বছর বেছে নিলে প্রায় ৳৬০,০০০ সাশ্রয় হয়। সাধারণ নিয়ম: মেয়াদ ২ বছর কমালে মোট সুদ ৩০-৫০% কমে।

ভিন্ন কিস্তি পদ্ধতির ঋণ কি পাশাপাশি তুলনা করা সম্ভব?

হ্যাঁ। আমাদের লোন তুলনা ক্যালকুলেটর ভিন্ন কিস্তি পদ্ধতির ঋণ পাশাপাশি তুলনা করতে দেয়। আপনি একটি ব্যাংকের সমান কিস্তির (EMI) অফারকে অন্য ব্যাংকের ক্রমহ্রাসমান কিস্তির অফারের সাথে সরাসরি তুলনা করতে পারবেন। এটি বিশেষভাবে কার্যকর যখন এক ব্যাংক শুধু EMI অফার করে আর অন্যটি ক্রমহ্রাসমান কিস্তি। বাংলাদেশের অধিকাংশ অনলাইন ক্যালকুলেটরে এই সুবিধা নেই।

ইসলামি ব্যাংকের মুনাফাভিত্তিক ঋণ কি এই ক্যালকুলেটরে তুলনা করা যাবে?

হ্যাঁ। ইসলামি ব্যাংকগুলো সুদের বদলে মুনাফা পদ্ধতি ব্যবহার করলেও, গাণিতিকভাবে মাসিক কিস্তি ও মোট পরিশোধের হিসাব একই সূত্রে করা যায়। ক্যালকুলেটরে মুনাফার হারকে সুদের হারের ঘরে এবং ঋণের পরিমাণ ও মেয়াদ নিজ নিজ ঘরে প্রবেশ করালেই প্রচলিত ও ইসলামি ব্যাংকের অফার পাশাপাশি তুলনা করতে পারবেন।


ঋণ তুলনার মূল পরিভাষা

EMI (সমান মাসিক কিস্তি)

ঋণ পরিশোধের এমন পদ্ধতি যেখানে পুরো মেয়াদ জুড়ে প্রতি মাসে সমান পরিমাণ কিস্তি দিতে হয়। প্রতিটি কিস্তিতে সুদ ও মূলধনের অংশ অন্তর্ভুক্ত থাকে। বাংলাদেশের অধিকাংশ ব্যাংক ব্যক্তিগত ঋণ, গাড়ি লোন ও গৃহঋণে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে।

ক্রমহ্রাসমান কিস্তি

ঋণ পরিশোধের পদ্ধতি যেখানে প্রতি মাসে মূলধনের অংশ সমান থাকে, কিন্তু সুদের অংশ ব্যালেন্স কমার সাথে সাথে কমে যায়। ফলে কিস্তি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। EMI পদ্ধতির চেয়ে মোট সুদ সবসময় কম হয়।

মোট সুদ

ঋণের পুরো মেয়াদে প্রদত্ত সুদের সমষ্টি। মোট পরিশোধিত অর্থ থেকে মূলধন বাদ দিলে মোট সুদ পাওয়া যায়। ভিন্ন মেয়াদের ঋণ তুলনায় এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপক।

প্রসেসিং ফি

ঋণ প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যাংক কর্তৃক ধার্যকৃত একবারের ফি, সাধারণত ঋণের পরিমাণের ১-৩%। এই ফি ঋণের কার্যকর খরচ বাড়ায় এবং তুলনার সময় অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হয়।

SMART রেট

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত ঋণের সুদের হার নির্ধারণের ফর্মুলা, যা ট্রেজারি বিলের ৬ মাসের চলমান গড় হারের উপর ভিত্তি করে ব্যাংকগুলোর সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ করে।

আগাম পরিশোধ জরিমানা

কিছু ব্যাংক ঋণ নির্ধারিত মেয়াদের আগে সম্পূর্ণ পরিশোধ করলে জরিমানা আরোপ করে। অতিরিক্ত কিস্তি দেওয়ার বা আগাম ঋণ শোধ করার পরিকল্পনা থাকলে এই শর্ত আগে থেকে যাচাই করা উচিত।

ঋণের মোট খরচ

ঋণের পুরো মেয়াদে প্রদত্ত সম্পূর্ণ অর্থ — মূলধন, সমস্ত সুদ এবং সকল ফি মিলিয়ে। ভিন্ন ভিন্ন ঋণের অফার তুলনায় এটিই একমাত্র সংখ্যা যা সুদের হার, মেয়াদ ও ফি — সবকিছু একত্রে বিবেচনা করে।