Smart Calculators

Smart

Calculators

গৃহঋণ ক্যালকুলেটর

আপনার মাসিক গৃহঋণ কিস্তি, মোট সুদ এবং সম্পূর্ণ পরিশোধ সূচি গণনা করুন। সম্পত্তি কর, বীমা, PMI এবং অতিরিক্ত পরিশোধ বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত।

গৃহঋণ ক্যালকুলেটর। মাসিক কিস্তি, মোট সুদ এবং পরিশোধ সূচি।
গৃহঋণ ক্যালকুলেটর ঋণের পরিমাণ, সুদের হার ও মেয়াদের ভিত্তিতে মূলধন, সুদ, কর, বীমা ও PMI একত্র করে মাসিক কিস্তি হিসাব করে। এটি একটি সম্পূর্ণ পরিশোধ সূচি তৈরি করে যা দেখায় প্রতিটি কিস্তি সুদ ও মূলধনের মধ্যে কীভাবে বিভক্ত হয়।

হোম লোন বা গৃহঋণ কী?

হোম লোন বা গৃহঋণ হলো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ফ্ল্যাট, বাড়ি বা জমি কেনার জন্য নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি ঋণ, যেখানে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিই জামানত হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশে সাধারণত ৫ থেকে ২৫ বছর মেয়াদে গৃহঋণ পাওয়া যায় এবং ২০২৬ সালে বিভিন্ন ব্যাংকে সুদের হার ৯% থেকে ১৪% পর্যন্ত রয়েছে।
গৃহঋণের মাসিক কিস্তি (EMI — Equated Monthly Installment) সাধারণত ফরাসি অ্যামর্টাইজেশন পদ্ধতিতে হিসাব করা হয়, অর্থাৎ পুরো ঋণ মেয়াদে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পরিশোধ করতে হয়। প্রতিটি কিস্তির একটি অংশ মূলধন (আসল) কমাতে যায় এবং বাকি অংশ সুদ হিসেবে ব্যাংককে দেওয়া হয়। ঋণের প্রথম দিকে বেশিরভাগ টাকা সুদে যায়, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মূলধন পরিশোধের অংশ বাড়তে থাকে।
বাংলাদেশে গৃহঋণের মোট খরচ শুধু মূলধন ও সুদেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সাথে যোগ হয় প্রসেসিং ফি (সাধারণত ঋণের ১-২%), সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন খরচ, ভূমি উন্নয়ন কর, এবং বীমা প্রিমিয়াম। ঢাকা ও চট্টগ্রামে ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে RAJUK বা CDA-এর অনুমোদন ও রেজিস্ট্রেশন ফি-ও বিবেচনায় রাখতে হয়।

গৃহঋণের মাসিক কিস্তি (EMI) কীভাবে হিসাব করবেন

গৃহঋণের মাসিক কিস্তি হিসাব করতে আপনার তিনটি মূল তথ্য দরকার: ঋণের পরিমাণ (সম্পত্তির দাম থেকে ডাউন পেমেন্ট বাদ দিয়ে), বার্ষিক সুদের হার, এবং ঋণের মেয়াদ। ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া:
1. ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করুন। সম্পত্তির মোট দাম থেকে আপনার ডাউন পেমেন্ট বাদ দিন। যেমন, ৳৮০ লাখ টাকার একটি ফ্ল্যাটে ৩০% ডাউন পেমেন্ট (৳২৪ লাখ) দিলে ঋণের পরিমাণ হবে ৳৫৬ লাখ।
2. বার্ষিক সুদের হারকে মাসিক হারে রূপান্তর করুন। বার্ষিক হারকে ১২ দিয়ে ভাগ করুন। ১০% বার্ষিক সুদে মাসিক হার হবে ০.১০ ÷ ১২ = ০.০০৮৩৩।
3. মোট কিস্তির সংখ্যা গণনা করুন। ঋণের মেয়াদকে ১২ দিয়ে গুণ করুন। ২০ বছরের ঋণে মোট কিস্তি হবে ২৪০টি।
4. EMI সূত্র প্রয়োগ করুন। পরবর্তী বিভাগে দেওয়া সূত্রে এই মানগুলো বসিয়ে মাসিক কিস্তি বের করুন।
5. অতিরিক্ত খরচ যোগ করুন। বীমা প্রিমিয়াম, প্রসেসিং ফি (মাসিক ভাগে) এবং অন্যান্য চার্জ যোগ করুন।
উপরের উদাহরণে (৳৫৬ লাখ, ১০% সুদ, ২০ বছর), মাসিক কিস্তি হবে প্রায় ৳৫৪,০৩৪। পুরো ঋণ মেয়াদে আপনি মোট পরিশোধ করবেন প্রায় ৳১,২৯,৬৮,২৪৫ — এর মধ্যে ৳৭৩,৬৮,২৪৫ শুধুমাত্র সুদ হিসেবে যাবে।

গৃহঋণের EMI গণনার সূত্র

M=P×r(1+r)n(1+r)n1M = P \times \frac{r(1 + r)^n}{(1 + r)^n - 1}
  • MM = মাসিক কিস্তি বা EMI (শুধুমাত্র মূলধন ও সুদ)
  • PP = ঋণের মূল পরিমাণ (সম্পত্তির দাম থেকে ডাউন পেমেন্ট বাদ দিয়ে)
  • rr = মাসিক সুদের হার (বার্ষিক সুদের হার ÷ ১২)
  • nn = মোট কিস্তির সংখ্যা (ঋণের মেয়াদ বছরে × ১২)
এটি ফরাসি অ্যামর্টাইজেশন সূত্র — বাংলাদেশের প্রায় সব বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (BHBFC) এই পদ্ধতি ব্যবহার করে। এই সূত্র অনুযায়ী পুরো ঋণ মেয়াদে মাসিক কিস্তি একই থাকে।
উদাহরণ হিসেবে, ৳৫০ লাখ টাকার ঋণ ৯% বার্ষিক সুদে ২০ বছরের জন্য নিলে: মাসিক হার = ০.০৯ ÷ ১২ = ০.০০৭৫, এবং মোট কিস্তি = ২৪০। সূত্রে বসালে:
M=50,00,000×0.0075×(1.0075)240(1.0075)2401=50,00,000×0.0075×5.96935.9693144,986M = 50{,}00{,}000 \times \frac{0.0075 \times (1.0075)^{240}}{(1.0075)^{240} - 1} = 50{,}00{,}000 \times \frac{0.0075 \times 5.9693}{5.9693 - 1} \approx 44{,}986
অর্থাৎ মাসিক কিস্তি হবে প্রায় ৳৪৪,৯৮৬। ২০ বছরে মোট পরিশোধ করতে হবে ৳১,০৭,৯৬,৬৪০ — এর মধ্যে ৳৫৭,৯৬,৬৪০ শুধু সুদ, যা মূল ঋণের চেয়ে বেশি। এই কারণেই সামান্য সুদের হার কমলেও দীর্ঘমেয়াদে লাখ লাখ টাকা সাশ্রয় হতে পারে।
মনে রাখবেন, অনেক বাংলাদেশি ব্যাংক "ফ্ল্যাট রেট" পদ্ধতিতে সুদ হিসাব করে, যেখানে সুদ পুরো মূল ঋণের উপর গণনা হয়, ক্রমহ্রাসমান ব্যালেন্সের উপর নয়। ফ্ল্যাট রেটে প্রকৃত সুদের হার (effective rate) নামমাত্র হারের প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। তাই ঋণ নেওয়ার আগে অবশ্যই জেনে নিন ব্যাংক ক্রমহ্রাসমান ব্যালেন্স (reducing balance) নাকি ফ্ল্যাট রেট পদ্ধতি ব্যবহার করছে।

গৃহঋণের বাস্তব উদাহরণ

ঢাকায় ৳৮০ লাখ টাকার ফ্ল্যাট: ৩০% ডাউন পেমেন্টে মাসিক কিস্তি কত?

মিরপুর এলাকায় ১,২০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের দাম ৳৮০ লাখ। ক্রেতা ৩০% ডাউন পেমেন্ট (৳২৪ লাখ) দিলেন, ঋণের পরিমাণ দাঁড়ালো ৳৫৬ লাখ। ১০% বার্ষিক সুদে ২০ বছরের ঋণে মাসিক কিস্তি হবে প্রায় ৳৫৪,০৩৪। পুরো ঋণ মেয়াদে মোট পরিশোধ হবে ৳১,২৯,৬৮,১৬০ — এর মধ্যে ৳৭৩,৬৮,১৬০ সুদ, যা মূল ঋণের ১৩২%। প্রথম মাসের কিস্তি ৳৫৪,০৩৪-এর মধ্যে ৳৪৬,৬৬৭ সুদ এবং মাত্র ৳৭,৩৬৭ মূলধন পরিশোধে যায়। ঋণের ১০ বছর পরেও মূলধনের মাত্র ৩০% পরিশোধ হয়।

১০ বছর বনাম ২০ বছরের ঋণ: ৳৪০ লাখের ফ্ল্যাটে তুলনা

৳৪০ লাখ টাকার ঋণ ৯.৫% সুদে নিলে, ১০ বছর মেয়াদে মাসিক কিস্তি হবে ৳৫১,৭১৬ এবং মোট সুদ খরচ হবে ৳২২,০৫,৯২০। ২০ বছর মেয়াদে মাসিক কিস্তি নেমে আসবে ৳৩৭,৩৪৫-এ — মাসে ৳১৪,৩৭১ কম — কিন্তু মোট সুদ হবে ৳৪৯,৬২,৮০০, প্রায় ৳২৭,৫৭,০০০ বেশি। ১০ বছরের ঋণে মাসিক কিস্তি বেশি হলেও মোট সুদে প্রায় অর্ধেক সাশ্রয় হয়। যদি মাসিক আয়ের ৪০-৫০% কিস্তিতে দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে কম মেয়াদ বেছে নেওয়া আর্থিকভাবে বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রতি মাসে ৳৫,০০০ অতিরিক্ত পরিশোধ করলে কত সাশ্রয় হয়?

৳৫০ লাখ টাকার ঋণ ১০% সুদে ২০ বছরের জন্য নিলে, স্বাভাবিক মাসিক কিস্তি হয় ৳৪৮,২৫৩। প্রতি মাসে ৳৫,০০০ অতিরিক্ত মূলধন পরিশোধ করলে, ঋণ ২০ বছরের বদলে প্রায় ১৬ বছরে শোধ হয়ে যায় — ৪ বছর আগে। মোট সুদ ৳৬৫,৮০,৭২০ থেকে কমে প্রায় ৳৫০,৫০,০০০-এ নেমে আসে, অর্থাৎ প্রায় ৳১৫,৩০,০০০ সাশ্রয়। এমনকি মাসে মাত্র ৳২,০০০ অতিরিক্ত পরিশোধ করলেও ২ বছর আগে ঋণ শেষ হয় এবং প্রায় ৳৮ লাখ সুদ বাঁচে।

গৃহঋণে টাকা সাশ্রয়ের কৌশল

  • যতটা সম্ভব বেশি ডাউন পেমেন্ট দিন। বাংলাদেশে সাধারণত ২০-৩০% ডাউন পেমেন্ট প্রয়োজন হয়। ৳৮০ লাখের ফ্ল্যাটে ২০% (৳১৬ লাখ) বদলে ৩০% (৳২৪ লাখ) ডাউন পেমেন্ট দিলে, ঋণের পরিমাণ ৳৮ লাখ কমে এবং ২০ বছরে প্রায় ৳১২ লাখ টাকা সুদ সাশ্রয় হয়।
  • একাধিক ব্যাংকের সুদের হার তুলনা করুন। DBBL, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক এবং BHBFC — প্রতিটির সুদের হার ও শর্ত ভিন্ন। মাত্র ১% হার কমলে ৳৫০ লাখ টাকার ২০ বছরের ঋণে প্রায় ৳৭ লাখ সুদ সাশ্রয় হয়। কমপক্ষে ৩-৪টি ব্যাংকের কোটেশন নিন।
  • ক্রমহ্রাসমান ব্যালেন্স (reducing balance) পদ্ধতির ঋণ বেছে নিন। ফ্ল্যাট রেটে ৯% সুদ কার্যত ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে ১৬-১৭%-এর সমান। ঋণের চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের আগে সুদ গণনার পদ্ধতি সম্পর্কে নিশ্চিত হন।
  • সামর্থ্য থাকলে অতিরিক্ত মূলধন পরিশোধ করুন। বোনাস, ইনক্রিমেন্ট বা উৎসবকালীন অতিরিক্ত আয়ের একটি অংশ ঋণের মূলধনে দিয়ে দিন। ৳৫০ লাখের ঋণে প্রতি মাসে মাত্র ৳৫,০০০ অতিরিক্ত পরিশোধ করলে ৪ বছর আগে ঋণ শেষ হয় এবং ৳১৫ লাখের বেশি সুদ সাশ্রয় হয়।
  • বাড়ি কেনার আগে সব খরচ হিসাব করুন। শুধু ফ্ল্যাটের দামই সব নয় — রেজিস্ট্রেশন ফি (সম্পত্তি মূল্যের ১০-১৫%), স্ট্যাম্প ডিউটি, RAJUK ফি, ইউটিলিটি সংযোগ, সার্ভিস চার্জ এবং অভ্যন্তরীণ সজ্জার খরচ মিলিয়ে সম্পত্তি মূল্যের অতিরিক্ত ১৫-২০% বাজেট রাখুন।
  • সুদের হার কমলে রিফাইন্যান্সিং বিবেচনা করুন। যদি বর্তমান হার থেকে ১.৫-২% কম হারে ঋণ পাওয়া যায়, তাহলে অন্য ব্যাংকে ব্যালেন্স ট্রান্সফার বা রিফাইন্যান্সিং লাভজনক হতে পারে। তবে প্রসেসিং ফি ও অন্যান্য খরচ হিসেবে নিয়ে ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট বের করুন।

গৃহঋণ সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসা

বাংলাদেশে গৃহঋণের সুদের হার কত?

২০২৬ সালে বাংলাদেশে গৃহঋণের সুদের হার ব্যাংকভেদে ৯% থেকে ১৪% পর্যন্ত। সরকারি প্রতিষ্ঠান BHBFC-তে ৯-১০% হারে ঋণ পাওয়া যায়। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে সাধারণত ১০-১২% হারে হোম লোন দেওয়া হয়। ব্র্যাক ব্যাংকে প্রায় ১১%, DBBL-এ ৯-১০%, এবং সিটি ব্যাংকে ১০-১১%। ইসলামী ব্যাংকের হাউসিং ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামে (HIP) মুনাফার হার ১০-১২%। এই হারগুলো পরিবর্তনশীল এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা ও বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে।

গৃহঋণের জন্য কত টাকা ডাউন পেমেন্ট দিতে হয়?

বাংলাদেশে অধিকাংশ ব্যাংক সম্পত্তি মূল্যের ৭০-৮০% পর্যন্ত ঋণ দেয়, অর্থাৎ আপনাকে ২০-৩০% ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে। ৳৮০ লাখের ফ্ল্যাটে ৩০% ডাউন পেমেন্ট মানে ৳২৪ লাখ নিজস্ব তহবিল থেকে দিতে হবে। সরকারি চাকরিজীবীরা কিছু ক্ষেত্রে ৯০% পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন, তখন ডাউন পেমেন্ট মাত্র ১০%। কিছু ডেভেলপার নির্মাণাধীন ফ্ল্যাটের জন্য ইনস্টলমেন্টে ডাউন পেমেন্ট নেওয়ার সুবিধা দেয়।

ফ্ল্যাট রেট ও ক্রমহ্রাসমান ব্যালেন্স পদ্ধতিতে সুদের পার্থক্য কী?

ফ্ল্যাট রেট পদ্ধতিতে পুরো ঋণ মেয়াদে মূল ঋণের পরিমাণের উপর সুদ গণনা করা হয়, ফলে প্রকৃত সুদের হার নামমাত্র হারের প্রায় ১.৮ থেকে ২ গুণ হয়ে যায়। ক্রমহ্রাসমান ব্যালেন্স (reducing balance) পদ্ধতিতে প্রতি মাসে অবশিষ্ট মূলধনের উপর সুদ গণনা হয়, ফলে মূলধন কমার সাথে সাথে সুদও কমে। উদাহরণস্বরূপ, ৳৫০ লাখের ঋণে ৯% ফ্ল্যাট রেটে ২০ বছরে মোট সুদ হবে ৳৯০ লাখ, কিন্তু ৯% ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে মোট সুদ হবে প্রায় ৳৫৮ লাখ — ৳৩২ লাখ কম। ঋণ নেওয়ার আগে অবশ্যই সুদ গণনার পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নিন।

গৃহঋণের জন্য কোন কোন কাগজপত্র লাগে?

বাংলাদেশে গৃহঋণের আবেদনে সাধারণত যে কাগজপত্র লাগে: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), টিআইএন (TIN) সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বেতনভোগীদের জন্য বেতন সনদ ও নিয়োগপত্র, ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর রিটার্ন। সম্পত্তি সংক্রান্ত কাগজপত্রের মধ্যে লাগে: বরাদ্দপত্র (allotment letter), RAJUK/CDA অনুমোদিত নকশা, জমির মালিকানা দলিল, নামজারি খতিয়ান, এবং আপ-টু-ডেট নন-এনকাম্বরেন্স সার্টিফিকেট।

অ্যামর্টাইজেশন শিডিউল কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অ্যামর্টাইজেশন শিডিউল হলো ঋণের প্রতিটি মাসিক কিস্তির বিস্তারিত ভাঙন — কোন কিস্তিতে কত টাকা মূলধন এবং কত টাকা সুদ হিসেবে যাচ্ছে তার একটি সম্পূর্ণ তালিকা। এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর মাধ্যমে আপনি দেখতে পান যে ঋণের প্রথম বছরগুলোতে কিস্তির বেশিরভাগ অংশ সুদে যায়। যেমন, ৳৫০ লাখের ঋণ ১০% সুদে ২০ বছরের জন্য — প্রথম মাসে ৳৪৮,২৫৩ কিস্তির মধ্যে ৳৪১,৬৬৭ সুদ এবং মাত্র ৳৬,৫৮৬ মূলধন পরিশোধ। ১০ বছর পরেও মূলধনের মাত্র ২৮% পরিশোধ হয়। এই শিডিউল দেখে আপনি অতিরিক্ত পরিশোধের সর্বোত্তম সময় নির্ধারণ করতে পারেন।

মাসিক আয়ের কত শতাংশ গৃহঋণের কিস্তিতে দেওয়া উচিত?

আর্থিক বিশেষজ্ঞরা সাধারণত মাসিক স্থূল আয়ের ৩০-৪০%-এর বেশি গৃহঋণের কিস্তিতে দেওয়ার পরামর্শ দেন না। বাংলাদেশে অনেক ব্যাংক ঋণ অনুমোদনের সময় ৫০% পর্যন্ত DSR (Debt Service Ratio) গ্রহণ করে, তবে এটি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। যেমন, মাসিক আয় ৳১,৫০,০০০ হলে কিস্তি ৳৪৫,০০০-৳৬০,০০০-এর মধ্যে রাখা উচিত, যাতে বাকি খরচ, সঞ্চয় এবং জরুরি তহবিলের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকে।

বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকের গৃহঋণ কীভাবে কাজ করে?

ইসলামী ব্যাংকগুলো সুদভিত্তিক ঋণ দেয় না, বরং শরীয়াহ-সম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতি ব্যবহার করে। সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হলো 'মুশারাকাহ মুতানাকিসাহ' (Diminishing Musharakah) — যেখানে ব্যাংক ও গ্রাহক যৌথভাবে সম্পত্তি কেনেন এবং গ্রাহক ধীরে ধীরে ব্যাংকের অংশ কিনে নেন। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের হাউসিং ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামে (HIP) মুনাফার হার ১০-১২% এবং সর্বোচ্চ ২০ বছর মেয়াদে ঋণ পাওয়া যায়। মাসিক কিস্তি গণনার পদ্ধতি প্রচলিত ব্যাংকের EMI-এর মতোই, শুধু পরিভাষা ভিন্ন — সুদকে বলা হয় মুনাফা এবং ঋণকে বলা হয় বিনিয়োগ।

ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট কিনতে সব মিলিয়ে কত টাকা লাগে?

ঢাকায় ফ্ল্যাটের দাম এলাকাভেদে ব্যাপক তারতম্য হয়। মিরপুর বা মোহাম্মদপুরে প্রতি বর্গফুট ৳৭,০০০-৳১০,০০০, ধানমন্ডিতে ৳১৮,০০০-৳২৫,০০০ এবং গুলশানে ৳১৮,০০০-৳৩৬,০০০। ১,২০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের দাম মিরপুরে ৳৮৪ লাখ থেকে ১.২ কোটি, গুলশানে ৳২.১৬ কোটি থেকে ৳৪.৩২ কোটি পর্যন্ত হতে পারে। ফ্ল্যাটের দামের বাইরে রেজিস্ট্রেশন ফি (প্রায় ১০-১৫%), প্রসেসিং ফি (১-২%), এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মোট বাজেট ফ্ল্যাটের দামের ১১৫-১২০% ধরে রাখা উচিত।


গৃহঋণ সংক্রান্ত মূল পরিভাষা

EMI (ইএমআই)

Equated Monthly Installment — প্রতি মাসে ব্যাংককে পরিশোধ করতে হয় এমন সমান কিস্তি, যার মধ্যে মূলধন ও সুদ উভয়ই অন্তর্ভুক্ত।

অ্যামর্টাইজেশন

নির্দিষ্ট মেয়াদে সমান মাসিক কিস্তির মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়া। প্রতিটি কিস্তিতে সুদ ও মূলধনের অনুপাত ক্রমশ পরিবর্তন হয়।

ডাউন পেমেন্ট

সম্পত্তি ক্রয়ের সময় ক্রেতা নিজের তহবিল থেকে যে অংশ প্রদান করে। বাংলাদেশে সাধারণত সম্পত্তি মূল্যের ২০-৩০%।

ক্রমহ্রাসমান ব্যালেন্স (Reducing Balance)

সুদ গণনার পদ্ধতি যেখানে প্রতি মাসে অবশিষ্ট মূলধনের উপর সুদ ধার্য হয়। মূলধন কমার সাথে সাথে সুদের পরিমাণও কমে।

BHBFC

বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন — সরকারি প্রতিষ্ঠান যা তুলনামূলক কম সুদে গৃহঋণ প্রদান করে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৯-১০% সুদের হার।

LTV (লোন-টু-ভ্যালু রেশিও)

ঋণের পরিমাণ ও সম্পত্তির মূল্যায়িত দামের অনুপাত। বাংলাদেশে সাধারণত সর্বোচ্চ LTV ৭০-৮০%।

ফ্ল্যাট রেট

সুদ গণনার পদ্ধতি যেখানে পুরো ঋণ মেয়াদে মূল ঋণের সম্পূর্ণ পরিমাণের উপর সুদ ধার্য হয়। প্রকৃত সুদের হার (effective rate) নামমাত্র হারের প্রায় দ্বিগুণ হয়।